ডা. তাসনিম জারা,
চিকিৎসক, এনএইচএস ইংল্যান্ড এমএসসি অধ্যায়নরত, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
রাশিয়া ভ্যাকসিন কি চলে আসলো? আপনার যারা আমাকে ফলো করেন, তাদের আমি বলেছিলাম ভ্যাকসিন বা ঔষধের ব্যাপারে কোনো আপডেট আসলে আপনাদের জানাবো।
রাশিয়ার ভ্যাকসিন নিয়ে এখন অনেক সংবাদ দেখতে পাচ্ছি। দেশি-বিদেশী গণমাধ্যমগুলো খবর প্রচার করছে। অনেকে রাশিয়ার ভ্যাকসিন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। আবার অনেকে প্রকাশ করছে সন্দেহ। আমি এ লেখায় আপনাদের কাছে পরিস্কার চিত্রটি তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
আমরা সবাই অধীর আগ্রহে ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করছি। রাশিয়ার ভ্যাকসিন আমাদের সে অপেক্ষার অবসান ঘটালে ভালোই হবে। তবে তার জন্য ভ্যাকসিনটি নিরাপদ ও কার্যকর হতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাশিয়ার এ ভ্যাকসিন কি নিরাপদ ও কার্যকর। আমি তিনটি পয়েন্টে বিষয়টি পরিস্কার করে তুলে ধরবো।
প্রথম পয়েন্ট: স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা।
যে কোনো ভ্যাকসিন সেটা অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন, মডার্ণের ভ্যাকসিন, চায়না চায়নাব্রেকের ভ্যাকসিন বা রাশিয়ার ভ্যাকসিন। যে ভ্যাকসিনই হোক, সেটা কাজ করবে কিনা সেটা জানার একটা পদ্ধতি আছে। এ পদ্ধতি কারো জন্য ভিন্ন নয়। যে পদ্ধতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে স্বচ্ছতা। এ স্বচ্ছতা পালন করা হয় কয়েকটি ধাপে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ভ্যাকসিন সম্পর্কে তথ্য জার্নালে প্রকাশ করা। কেনো জার্নালে প্রকাশ করা হয়? যাতে করে সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা পূঙ্খনাপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন কোথাও কোনো ক্রটি আছে কিনা? এতে ভ্যাকসিনের প্রতি বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। আর এ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে, অনিরাপদ ও অকার্যকর ভ্যাকসিন বাজারে আসার আগেই ধরা পড়ে যায়। অক্সফোর্ড, মডার্ণ তাদের ভ্যাকসিন সম্পর্কিত তথ্য জার্নালে প্রকাশ করেছে। সেটা যাচাই বাছাই হয়েছে। রাশিয়া তাদের গবেষণা এখনো প্রকাশ করেনি। তাই সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা যাচাই করতে পারছেনা যে, ভ্যাকসিন আবিস্কারে রাশিয়ার দাবিটি আসলেই সঠিক কিনা?
দ্বিতীয় পয়েন্ট: একটি ভ্যাকসিন কার্যকর হবে কিনা সেটা মানবদেহে তিন ধাপে গবেষণা করে দেখা হয়।
এ তিন ধাপের ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতার সুযোগ নেই। সেটা করলে মানুষের জীবনকে ঝুকির মুখে ফেলা হয়। রাশিয়ার দাবী হচ্ছে ভ্যাকসিনটি প্রথম দুই ধাপ পার করেছে। দাবী বলছি, কারণ তারা এ ব্যাপারে জার্নালে কিছু প্রকাশ করেনি। এ পর্যন্ত কমপক্ষে আরও ছয়টি ভ্যাকসিন এই দুই ধাপ পà¦