আওয়ার ইসলাম: নিজের স্বামীর গলায় মোবাইলের চার্জারের তার পেঁচিয়ে খুন করেন স্ত্রী। তারপর সেটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চেয়েছেন তিনি। আত্মহত্যার পর কুকুর দেহের কিছু অংশ কেটে নিয়েছে এমন কথা বললেও নিজেই কেটে নেন স্বামীর দেহের অংশ। পরে স্বামীর সে দেহ দিয়ে নিজেই বিরানী পাকিয়ে আপন শুশুরকে খাওয়ান স্ত্রী।
সম্প্রতি ভারতের কলকাতায় এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। বিধাননগর কমিশনারেটের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে এমন ভয়ানক চিত্র।
ঘটনার চিত্র এমন, পুলিশি জেরায় স্বামী রজত দে-র আত্মহত্যার তত্ত্ব প্রায় প্রতিষ্ঠিত করেই ফেলেছিলেন স্ত্রী অনিন্দিতা। কিন্তু বিধাননগর কমিশনারেটের এক শীর্ষকর্তার তা বিশ্বাস হয়নি। অগত্যা তিনি নিজেই কয়েকজন সিনিয়র সহকর্মীকে নিয়ে অনিন্দিতাকে জেরা করতে শুরু করেন। তাঁদের সমবেত প্রশ্নের মুখে ভেঙে পড়ে অনিন্দিতা শেষে স্বীকার করেন, তিনিই স্বামী রজতের গলায় মোবাইলের চার্জারের তার পেঁচিয়ে খুন করেছেন। তার পর সেটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য মৃতদেহের গলায় জড়িয়ে দিয়েছিলেন বিছানার চাদর।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) অনিন্দিতার শাস্তি ঘোষণার আগে মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের ফেসবুক পেজে ওই খুনের ঘটনা এবং তদন্তের বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। যে অফিসাররা অনিন্দিতাকে জেরা করেছিলেন, তাঁদের একজন বুধবার বলছিলেন, ‘প্রথমে আমাদেরও মনে হয়েছিল ঘটনাটা আত্মহত্যারই। কিন্তু তার পর আরও তলিয়ে ভাবতে শুরু করি। মনে হয়, অনিন্দিতাকে আরও জেরা করা দরকার। কারণ, ওর জবাবে কোথাও কোথাও অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছিল। তার পরেই সত্যিটা বেরিয়ে আসে।’ অনিন্দিতা স্বীকার করেন নেন, তিনিই রজতকে খুন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে মামলা শুরু হয়।
২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর নিউটাউনের ফ্ল্যাটের বসার ঘরে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী, বছর চৌত্রিশের রজত দে-র মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেখা যায়, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তিনি মারা গিয়েছেন। কী ভাবে তাঁর শ্বাসরুদ্ধ হলো, তা নিয়েই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। রজতের স্ত্রী অনিন্দিতাও পেশায় আইনজীবী। দুজনে প্রায় সমবয়সী। তিনি কলকাতা এবং বোম্বে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করতেন। অনিন্দিতা প্রথম থেকেই বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করতে থাকেন।
দু’জনের একটি সন্তান ছিল। কিন্তু রজতের মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকে দু’জনের সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন। সামনে আসে অনিন্দিতার গুগল সার্চ এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ইতিহাসও। যেখানে তিনি বিবাহকে ‘গণশ