সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

বৈবাহিক ধর্ষণ: ইসলাম কী বলে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফরহাদ খান নাঈম।।

বৈবাহিক ধর্ষন বা গধৎরঃধষ জধঢ়ব পশ্চিমা সংস্কৃতির ধারক-বাহকদের বানানো একটি কথা। প্রকৃতপক্ষে ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষনের কোনো স্থানই নেই। কেউ যদি বৈবাহিক ধর্ষনের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চায়, তাহলে তাকে ইসলামিক ডান্স পার্টি কিংবা ইসলামিক মিউজিক পার্টি প্রমাণ করতে হবে।

আসলে বিবাহ বা গধৎৎরধমব ও ধর্ষন বা জধঢ়ব পরস্পর বিরোধি ও সাংঘর্ষিক একটি ব্যাপার। ব্যাপারটা এমন যেনো কেউ বলছে, একজন লম্বা-খাটো ব্যক্তি অথবা একজন মোটা-পাতলা লোক।

বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার একটি পবিত্র সম্পর্ককে বোঝায়। যখন কোনো নারী-পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন উভয়ের জন্যই উভয় হালাল হয়ে যায়। বিবাহ পরবর্তী সাংসারিক জীবনে অনেক কিছুই স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ঐক্যমতে সংঘটিত হয় না। বিবাহ পরবর্তী শারীরিক মিলনও এর ব্যতিক্রম নয়। সুতরাং স্ত্রীর অমতে স্বামীর মিলন কিংবা স্বামীর অনিচ্ছায় স্ত্রীর মিলন কোনোভাবেই ধর্ষনের সংজ্ঞায় পড়ে না।

পরিভাষায় কারো সাথে জোরপূর্বক বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করাকে ধর্ষন বলে; যা কোনোভাবেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্ভব নয়। তাই বৈবাহিক ধর্ষনের এই ধারনাটি সম্পূর্ণ অমূলক ও ভিত্তিহীন।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা বাক্বারার ১৮৭ নং আয়াতে বলেছেন, তারা (নারীরা) তোমাদের পোষাক ও তোমরা (পুরুষেরা) তাদের পোষাকস্বরূপ। পোষাক যেমন পোষাক পরিধানকারীকে সৌন্দর্যমÐিত করে; তেমনি স্বামী-স্ত্রীও সুন্দর সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি সুখী দাম্পত্য জীবন নিশ্চিত করবে। এক্ষেত্রে তারা একে অপরকে সাহায্য করবে। অন্যথায় আল্লাহ তায়ালার ভাষ্যমতে “পোষাকের” উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

উদাহরণস্বরূপ, কারো যদি কোনো পোষাক থাকে, আর সে যদি তা পরিধান না করে, তাহলে তার দ্বারা উক্ত পোষাকের উদ্দেশ্য সাধিত হচ্ছে না।
বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রেম-ভালোবাসা ও মুহাব্বাতের একটি সম্পর্ক। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তিনি তোমাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে ভালোবাসা ও মমত্ববোধ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। সূরা রুম: আয়াত ২১।

একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবন লাভের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। স্বামী যদি কখনো তার স্ত্রীকে সহবাসের জন্য আহŸান করে, তাহলে শরয়ী কোনো বাধা না থাকলে, অনিচ্ছাকৃত হলেও স্ত্রীর উচিত স্বামীর আহŸানে সাড়া দিয়ে নিজেকে তার জন্য প্রস্তুত করা। অনুরূপভাবে স্বামীর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে (স্বামী) তার প্রতি রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফেরেশতাগণ তাকে সকাল অবধি অভিসম্পাত করতে থাকেন। বুখারী: ৪৭৯৪

কিন্তু এক্ষেত্রে স্বামীকেও স্ত্রীর অনুভূতিকে মূল্যায়ন করতে হবে। স্বামী যদি দেখে স্ত্রী এখন সহবাসের মেজাজে নেই, তাহলে তাকে জোর করা উচিত হবে না। যেহেতু স্ত্রী তার কাছে স্থায়ীভাবে আছে, সুতরাং সহবাসের ক্ষেত্রে স্বামীর অধৈর্য্য হওয়া উচিত নয়।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কে জোরাজুরির কোনো স্থান নেই। এ পবিত্র সম্পর্ক পুরোটাই সুন্দর বোঝাপোড়ার উপর প্রতিষ্ঠিত। স্বামী যেনো বিপথগামী না হয়, আর স্ত্রীও যেনো ভুল পথে পা না বাড়ায়, তাই স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই উভয়ের চাহিদার মূল্যায়ন করতে হবে।

কিন্তু সাংসারিক অপরাপর বিষয়ের মতো করে সহবাসও যদি স্বামী কিংবা স্ত্রীর অমতে ঘটে যায়, তবু এটিকে কখনোই গধৎরঃধষ জধঢ়ব বা বৈবাহিক ধর্ষন বলা যাবে না।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ