শায়েখ মাহমুদুল হাসান।।
আব্বাসী শাসনামল তখন। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশ। সারাদেশে জ্বলে ওঠে আগুন। ‘খলকে কুরআন’-এর মাসআলা নিয়ে- কুরআন কী মাখলুক, না গায়রে মাখলুক? সৃষ্টি, না স্রষ্টা? মু’তাযিলারা বলে কুরআন মাখলুক: সৃষ্টি। কিন্তু হক্কানী ওলামায়ে কেরাম বলেন, কুরআন গায়রে মাখলুক; স্রষ্টার কালামও স্রষ্টা। ফলে হক্কানী ওলামায়ে কেরামের ওপর চলে দমন-পীড়ন সরকারের তরফ থেকে। যেহেতু মু’তাযিলারা ছিল সরকারী ছত্রছায়ায়। সরকারের অনুগত। সরকারও তাদের কথায় হক্কানী ওলামায়ে কেরামের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালায়।
এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উদ্যোগী ছিলেন খলীফা মু‘তাসিম বিল্লাহ এবং ওয়াসিক বিল্লাহ। তারা মু‘তাযিলাদের পক্ষ নিয়ে আহলে হককে জুলুমের নিশানা বানিয়েছিলেন। দরবারে মু‘তাযিলা নেতা ছিলেন আহমাদ বিন আবু দাঊদ। এ লোক সম্ভাব্য সব উপায়ে খলীফার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সাজার ব্যবস্থা করতেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মতো হাদীস ও ফিকহের অনন্য নক্ষত্রকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। শুধু এজন্য যে তিনি সরকারী মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না।
জগতব্যাপী চলতে থাকা ফেতনার এ অশান্ত আগুন আল্লাহ এক বয়োবৃদ্ধ আলেমের মাধ্যমে নিভিয়েছেন। যিনি তাঁর ঈমানী দৃঢ়তা, বিচক্ষণতা, পর্বতসম অবিচলতা, বিশ্বাসের দৈবশক্তি আর একনিষ্ঠ আন্তরিকতার মাধ্যমে দরবারের চেহারা পাল্টে দিয়েছিলেন। সেটা ঘটেছিল আব্বাসী শাসনামলের নবম খলীফা আল ওয়াসিক বিল্লাহর যুগে। ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন ওয়াসিকের পুত্র চতুর্দশ খলীফা আল মুহতাদী বিল্লাহ। তিনি তৎকালীন আলেম শায়খ সালেহ বিন হাশেমীকে তা শুনিয়েছিলেন।
শায়খ সালেহ বিন আলী হাশেমী বলেন, একদিন আমি খলীফা মুহতাদীর দরবারে গেলাম। তিনি দুঃখী মানুষের করুণ কাহিনী শোনার জন্য; দুঃখের কথা, কষ্টের কথা শোনার জন্য, আসর বসিয়েছিলেন। আমি দেখলাম, যে কোনো সাধারণ ব্যক্তি বিনা বাধায় খলীফার কাছে ঢুকতে পারছে। আর যে সব বিপদগ্রস্ত নিজে আসতে পারেনি, তাদের পত্র খলীফার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। খলীফা তাদের অভাব-অভিযোগ দূর করার জন্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ দৃশ্য আমার খুব পছন্দ হলো। যখন তিনি কোনো মানুষের কথা শুনতেন বা কারো পত্র পড়তেন তখন আমি অপলক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে চেয়ে থাকতাম। তিনি আমার দিকে তাকালে আমি চোখ নামিয়ে ফেলতাম। খলীফা আমার এ অবস্থা লক্ষ্য করলেন। তিনি বললেন-সালেহ! আমার মনে হয়, আপনার মনে কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনি তা বলতে চাচ্ছেন।
-আমি ইতিবাচক জবাব দিলাম। তিনি দরবার শেষ করে নামাযের মুà