।।রাবেতা হক।।
আমি দেখেছি এবং প্রতিনিয়ত দেখছি সেই মেয়েকে, যার সবকিছুতে সম্ভাবনার আলোকরশ্মি ঠিকরে পড়ে, যার কলম হতে শব্দের ফুল ঝরে, যার চোখের তারায় স্বপ্নের ঝিলিমিলি, যার হৃদয়ে আছে প্রতিভার সুপ্ত প্রদীপ। একটি বিচক্ষণ হাত ও একটু সুন্দর চিন্তার ছোঁয়ায় আকাশের তারা হয়ে সে মিটিমিটি জ্বলতো। প্রস্ফুটিত ফুল হয়ে চারপাশ সুরভিত করতো। তার সঠিক যত্ন ও সুস্থ তারবিয়াত নিশ্চিত হলে অন্তর্নিহিত সকল শক্তি ও সম্ভাবনার স্ফুরণ ঘটতো। কিন্তু অযত্নে, অবহেলায়, সময়ের নির্দয়তার ফুল হওয়ার আগেই সে ঝরে যায়। আশার প্রদীপ তার নিভে যায় !!
প্রতিটি প্রতিভা তো আল্লাহর দান। যার ঘরে, যার ছায়ায়, যার তত্ত্বাবধানে কোন প্রতিভা বেড়ে উঠতে চায় তার কর্তব্য হলো, প্রতিভার কদর করা। সমাজের প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করা। তাকে বিকশিত করতে যত্ন ও মমতার সাথে এগিয়ে নেওয়া। জলসিঞ্চন ছাড়া রোদের তাপে একটি প্রতিভা কতদিন আর বাঁচতে পারে! আমি তো জীবন সফরে পথহারা, ক্লান্ত, পরাজিত সৈনিকের মতো হতাশায় বিপর্যস্ত! আমার হৃদয়ের কান্না ও কলমের কালি সেই বোনের জন্য, যার হৃদয়ে আছে বিন্দু বিন্দু স্বপ্ন-শিশির। যে লাভ করবে পথচলার শক্তি, ফিরে পাবে মানযিল। যে স্বপ্ন দেখে, একদিন সে বড় হবে; পৃথিবীকে না হোক অন্তত তার পরিবারকে, অনাগত প্রজন্মকে দান করবে একমুঠো কল্যাণ। কিন্তু না! ওরা ধরে নিয়েছে, তার জন্ম হয়েছে চুলোর পাড়ে বসে জীবনকে ভস্ম করার জন্য !! তাই তার দেহ আছে, প্রাণ নেই। সে বেঁচে আছে, জীবিত নেই।
এ সমাজ কি পারে না তার আহত হৃদয়ের আকুতি বুঝতে? চারপাশ কি পারে না একটু উদার চিন্তায় তাকে বরণ করতে? ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তায় জড়িয়ে কেন প্রতিভাগুলোর প্রতি এ অবিচার? তবে কেন বলা হয়, 'মাতৃক্রোড় শিশুর সর্বোত্তম পাঠশালা'! আমাদের সমাজে মায়েদের কোল কি হতে পারছে সন্তানের সর্বোত্তম পাঠশালা ! মায়েরা কি হতে পারছে সন্তানের জন্য আদর্শ শিক্ষিকা! কোথায় মা ! আর কোথায় শিক্ষা ও আদর্শ ! শুধু দুধ-ভাত ও জামা-কাপড় কিভাবে হতে পারে একটি প্রতিভার জন্য প্রথম ও শেষ প্রচেষ্টা ? এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব কি আছে আমাদের কাছে?
আজকের চিন্তাশীল সমাজ নৈতিক অধঃপতন ও সামাজিক অবক্ষয়ের নানা কারণ তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো কেউ সমস্যার গভীরে যান না, ফলে সঠিক প্রতিকার ও নির্ণয় হচ্ছে না। হ্যাঁ। সামাজিক অধঃপতন ও নৈতিক অবক্ষয়ের পেছনে অর্থনৈতিক দুর্দশা ও বেকারত্বসহ নানা উপসর্গ ক্রিয়াশীল থাকতে পারে, কিন্তু অন্যতম কারণ হলো, ঘরে ঘরে আজ সুশিক্ষিত ও আদর্শ মায়ের অভাব। সেই কবে ন