রমজান ও ঈদুল ফিতরের আমেজ শেষে কওমি মাদরাসাগুলোতে শুরু হয়েছে ভর্তি যুদ্ধ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফলাইন ও অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ছাত্রদের জন্য ইলমে দীন শেখার পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে উপযোগী করতে বছরের শুরু থেকেই ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নানান নিয়ম ও উদ্যোগ গ্রহণ করছেন প্রতিটি মাদরাসার কর্তৃপক্ষ। প্রায় সব মাদরাসার ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে গুরুত্ব পেয়েছে মোবাইল ব্যবহারে কঠোরতার দিকটি। মোবাইল-ফোন বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনের অন্যতম অনুষজ্ঞ হয়ে উঠলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করে বলে মনে করেন গবেষকরা। পড়াশোনার সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কোন পদ্ধতী অবলম্বন করতে পারেন; কতটুকু কঠোরতা ও নমনীয়তার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন, এ নিয়ে দেশের ৩ শিক্ষাবিদ আলেমের সাথে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের সাব-এডিটর নুরুদ্দীন তাসলিম।
ছাত্রদের মোবাইল ব্যবহারে শতভাগ কঠোরতাই কাম্য: মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন
এ বিষয়ে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদরাসার তাফসির বিভাগের মুসরিফ মাওলানা মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন বলেছেন, ছাত্রদের মোবাইল ব্যবহারে শতভাগ কঠোরতাই কাম্য। বাটন সেট ব্যবহার এবং মোবাইল ব্যববহারে নির্দিষ্ট সময়ের বাধ্যবাধকতা এজাতীয় শর্ত বেধে দিলে ছাত্ররা কখনোই এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না। তাই মোবাইল ব্যবহারে কর্তৃপক্ষের শতভাগ কঠোরতাই কাম্য বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলছেন, মোবাইল ফেসবুকসহ ইন্টারনেট ভিক্তিক বিভিন্ন মাধ্যমগুলোতে ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ায় পড়াশোনার সাথে তাদের ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
তার মতে মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে ছাত্ররা শুধু এই মোবাইলেই সিমাবদ্ধ থাকছে না, ফেসবুকসহ আরও এমন অনেক বিষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। যেগুলো তাদের পড়াশোনা থেকে শতভাগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। বর্তমানে মাদ্রাসা এবং ছাত্রের সংখ্যা অনেক বেড়েছে কিন্তু সে তুলনায় কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষার্থী পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়ছে, বোর্ডে ভালো রেজাল্ট করেও কিতাবের ইবারত পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না অনেকেই। তাই এক্ষেত্রে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি কঠোরতা করার পক্ষেই মত দিলেন শিক্ষাবিদ মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন।
আরো পড়