কবি মুসা আল হাফিজ হাফি.
আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে হলোকাস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক প্রসঙ্গ। এ এমন বিষয়, যার উপর পা রেখে অস্তিত্বে এসেছে একটি রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক রবার্ট বি গোল্ডম্যান লিখেছেন- ‘হলোকাস্ট ছাড়া ইজরাইল নামক রাষ্ট্র গঠন সম্ভবই ছিলো না।’ গোল্ডম্যানের কথাটি যেভাবে ঐতিহাসিক, তেমনি ধর্মতাত্ত্বিক। ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থে আছে হলোকাস্টের ধারণা। তালমুদের ভাষ্য হচ্ছে, ইহুদীরা যখন রাজ্যহারা হয়ে যাবে, তখন ৬০ লাখ ইহুদীকে আত্মবিসর্জন দিতে হবে। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে ইহুদীদের নিজস্ব রাষ্ট্র!
নিজেদের একটা রাষ্ট্রের জন্য ৬০ লক্ষ প্রাণ দান ইহুদীদের পক্ষে কখনো সম্ভব হয়নি, যদিও তাদের প্রয়োজন ছিলো রাষ্ট্র অর্জন। কেননা শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত দেশে দেশে তারা উদ্ধাস্তুরূপে উৎপীড়নের শিকার হয়ে জীবন যাপন করছিলো। হিটলারের নাজিজম যখন জার্মানিতে উস্কে উঠলো, তখন সেখানকার ইহুদীদের পিঠটা একেবারে দেয়ালে ঠেকে যায়। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে যে কোন জাতির জন্যেই একটা না একটা প্রতিবিধান হয়ে যায়। এটা অনেকটা প্রাকৃতিক নিয়মেই। ইহুদীদের জন্যেও হলো।
উপলক্ষ সৃষ্টি করে দিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তারা তখন চাইলো হলোকাস্টের কর্তব্যটার একটা রাহা করা যায় কী-না? হলোকাস্ট কথাটার সরল তরজমা হলো আত্মবিসর্জন বা কোরবানী। আগেকার রোমান ও গ্রীকদের ধর্মীয় রীতিতে দেবতাদের খুশি রাখতে অন্ধকার রাতে কালো রঙের পশুকে পুরোটা ঝলসিয়ে উপঢৌকন হিসাবে পাহাড়ে রেখে আসা হতো। এটাকে তারা বলতো holokaustos। শব্দটি গঠিত গ্রীক শব্দ holos (whole) এবং kaustos(burnt) একসাথে মিলে। এর মানে হলে পুরোপুরি ঝলসানো উপঢৌকন। পরে ইংরেজিতে সেটা Holokaust হয়েছে। ইহুদীদের কাছে এ ছিলো খুবই গুরুতর এক কাজ, যেখানে পশু নয়, হলোকাস্ট করতে হবে নিজেদের ৬০ লক্ষ প্রাণ! যে প্রাণদানে তাদের অনীহা ইতিহাস স্বীকৃত।
কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইহুদী মিডিয়া প্রচার করলো, হলোকাস্ট সংগঠিত হয়ে গেছে। ৬০ লক্ষ ইহুদী হত্যা করেছে হিটলার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট স্টালিন, যিনি নিজে একজন ইহুদী ছিলেন, ঘোষণা দিলেন নাৎসীরা বিভিন্ন শ্রমশিবিরে ৬০ লক্ষ ইহুদী হত্যা করেছে। হিটলারের বিরুদ্ধে বিশ্বকে ক্ষেপিয়ে তোলার মোক্ষম একটি হাতিয়ার হিসেবে এটাকে লুফে নিলো মিত্রজোট। ফ্রান্স, আমেরিকা, বৃটেন প্রচারে যোগ দিলো। ব্যাপারটা চাউর হয়ে গেলো গোটা বিশ্বে। তারপর বিশ্বযুদ্ধ একসময় শেষ হবে।
হলোকাস্টের জন্য জার্মানিকে দায়ী করে ইহুদীদের জন্যে ৬ হাজার ৮ শো কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। যার উপর ভর করে ফà