শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
কাল ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে বয়ান করবেন শায়খ ইলিয়াস গুম্মান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ মাসব্যাপী আরবি ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স হাসনাতের বক্তব্যে মধ্যরাতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সিলেট মহানগর খেলাফত মজলিসের তরবিয়তি মজলিস অনুষ্ঠিত জাতীয় সিরাত সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার নিবন্ধনের সময় বাড়ল ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে ইসলামি বইমেলা অসুস্থ প্রবীণ আলেম মাওলানা সুলাইমান নোমানীর শয্যাপাশে আমিরে মজলিস নতুন ধারাবাহিক অনুষ্ঠান নিয়ে আসছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ দুই পবিত্র মসজিদ নিয়ে উদ্ভাবনী ধারণা আহ্বান, বিজয়ীদের মিলবে নগদ পুরস্কার বাসযোগ্য শহর গড়তে ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মীয়তার গুরুত্ব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

তরিকুল ইসলাম মুক্তার।।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। যা মানুষের মাঝে প্রেম-প্রীতি আর ভালোবাসার সু-নিপুণ সৌধ নির্মাণ করে। ভ্রাতৃত্ব্যপূর্ণ ব্যবহার সকলের কাম্য এবং ইসলামের দাবীও বটে। আত্মীয়, স্বজনের সাথে সু-সম্পর্কের মজবুত আস্থা স্থাপন করা শুধু ইসলামের দাবীই নয়; মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির চাহিদাও।

সুন্দর সমাজ ও পরিবার গঠনে আত্মীয়তার সম্পর্ক অপরিহার্য্য। আত্মীয়তার সু-সম্পর্কের অটুট বন্ধন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলায় সহযোগিতা করে। পক্ষান্তরে কেউ যদি আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করে তাহলে তার জীবন হয়ে উঠে অনেকটা বিপন্ন এবং ব্যর্থ। সমাজে একজন ব্যক্তির সম্পর্ক দু-ভাবে স্থাপিত হয়। এক আত্মীয়তা, দুই অন্যান্য সামাজিক সম্পর্ক। যেমন- প্রতিবেশী, খেলার সাথী, সহপাঠী, বন্ধু এবং ধর্মীয় সম্পর্ক ইত্যাদি। এর মধ্যে আত্মীয়ের সম্পর্কই সবচেয়ে নিকটের।

ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার উপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে হলে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে। আত্মীয়দের প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা পোষণ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, আন্তরিকতা, সাহায্য এবং উপদেশ দিয়ে তাদের সাথে গভীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। যিনি তোমাদের একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সহধর্মিনী সৃষ্টি করেছেন। যিনি তাদের দু'জন থেকে পৃথিবীতে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে আবেদন কর। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (নিসা- ১ আয়াত)।

হাদীস শরীফে আত্মীয়তার সম্পর্কের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার রিযিকের প্রাচুর্য এবং দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশা করে, তার উচিত আত্মীয়-স্বজনের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা। (মিশকাত- ৪১৯)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. বলেন, প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমনের প্রায় সাথে সাথেই আমিও তাঁর দরবারে গিয়ে হাজির হলাম। সর্বপ্রথম আমার কানে তাঁর যে কথাটি প্রবেশ করল, তা হলো এই- “হে লোক সকল! তোমরা পরস্পর পরস্পরকে বেশী করে সালাম দাও। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষকে খাদ্য দান কর। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোল এবং এমন সময়ে নামাযে মনোনিবেশ কর, যখন সাধারণ লোকেরা নিদ্রামগ্ন থাকে। স্মরণ রেখো, এ কথাগুলো পালন করলে তোমরা পরম সুখ ও শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে”। (মিশকাত)।

আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দেন, “আল্লাহ তাআলা সবার সাথে ন্যায় ও সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছেন এবং নির্দেশ দিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করার জন্য”। (সূরা নাহল- ৯০ আয়াত)।

হযরত সালমান ইবনে আমের রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন যে, সদকার মাল সাধারণ গরীব-মিসকীনকে দান করলে তাতে তো শুধু সদকার সাওয়াবই পাওয়া যায়। অথচ তা যদি নিজের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনকে দান করা হয়, তাহলে তাতে দুটি সাওয়াব পাওয়া যায়। একটি হল সদকার সওয়াব এবং আরেকটি হলো আত্মীয়তার হক আদায় করার সাওয়াব।

উল্লিখিত আয়াতে প্রথমে পিতা-মাতার হক্বের ব্যাপারে তাকীদ দেয়া হয়েছে এবং তার পরেই আত্মীয়-স্বজনের হক্বের কথা বলা হয়েছে। অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- “(বিপদগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ তাআলা যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে। ওরা যথার্থই ক্ষতিগ্রস্ত”। সূরা বাক্বারাহ- ২৭।

উল্লিখিত আয়াত থেকে বুঝা যায়, যে সব সম্পর্ক শরীয়ত বহাল রাখতে বলেছে, তা বজায় রাখা আবশ্যক এবং তা ছিন্ন করা হারাম।

অন্য এক হাদীসে নবী সা. ইরশাদ করেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী বেহেস্তে প্রবেশ করবে না।

কত বড় শাস্তির হুঁশিয়ারী বাণী উচ্চারণ করেছেন রাসুলুল্লাহ সা. অথচ এদিকে কী আমরা কতটুও খেয়াল করি? আমরা আমাদের নিজেদের কে নিয়ে চিন্তার জগতকে ডুবে আছি।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ