মোঃ নাদিম উদ্দীন আল মিয়াজি
বর্তমান বিশ্বে উন্নতি ও অগ্রগতির পরিমাপক মনে করা হয় বিজ্ঞানকে। আর কুরআন হচ্ছে বিজ্ঞানময়। তবে কুরআন বিজ্ঞানময় একথার অর্থ এই নয় যে, ‘আল্লাহ রব্বুল আলামীন কুরআন নাযিল করেছেন মানুষকে বিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য’; বরং ‘কুরআন বিজ্ঞানময়’ একথার অর্থ হচ্ছে, বিজ্ঞানের শেষ নির্যাসটুকু ব্যবহার করেও কুরআনের কোন একটি আয়াত বা শব্দকে অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করা যাবে না। (উল্লেখ্যঃ এখানে কুরআন বলতে কুরআন ও রসূল সা. এর সহীহ হাদিস-সমূহ বুঝিয়েছি।)
এক হাদিসে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
" النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ وَأَنَا أَمَنَةٌ لأَصْحَابِي فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لأُمَّتِي فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ " .
অর্থাৎ রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তারকারাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তা স্বরুপ। তারকারাজি যখন ধ্বংস হয়ে যাবে তখন আকাশের জন্য ওয়া’দাকৃত বিপদ আসন্ন হবে (অর্থ্যাৎ- আসমান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে ফলে কিয়ামত সংগঠিত হবে)। আর আমি আমার সাহাবাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা স্বরুপ। আমি যখন বিদায় নিব তখন আমার সাহাবাদের উপর ওয়া’দাকৃত সময় এসে সমুপস্থিত হয়ে যাবে (অর্থ্যাৎ ফিতনা-ফাসাদ ও দ্বন্দ সংঘাত লেগে যাবে)। আর আমার সাহাবাগণ সকল উম্মতের জন্য রক্ষাকবচ স্বরুপ। আমার সাহাবীগণ যখন বিদায় হয়ে যাবে তখন আমার উন্মাতের উপর ওয়া’দাকৃত বিষয উপস্থিত হবে।
মোল্লা আলি ক্বারী রহ, فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন, المراد بذهاب النجوم تكويرها وانكدارها وانعدامها অর্থাৎ : তারকারাজি যখন খসে পড়ে অন্ধকার হয়ে যাবে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিশ্ববিখ্যাত আলেম মুফতি ত্বকী ওসমানী তাকমিলাতে ফাতহুল মুলহিম গ্রন্থে লিখেছেন, أن النجوم ما دامت باقية فالسماء باقية ، فإذا انكدرت النجوم وتناثرت قامت القيامة و انشقت السماء
অর্থাৎ, যতদিন তারকারাজি টিকে থাকবে ততদিন আসমানও টিকে থাকবে। যখন তারকাগুলো খসে পড়ে অন্ধকার হয়ে যাবে, বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে তখন আসমান ফেটে যাবে এবং কিয়ামত কায়েম হবে।
এবং বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ রয়েছে কিয়ামত সংগঠিত হওয়ার সময় সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে, নক্ষত্রগুলো খসে পরবে,আসমান ফেটে যাবে। <