সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

মাওলানা আতাউর রহমান খান: হৃদয়ে তিনি মননে তিনি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।জহির উদ্দিন বাবর।। 

বাংলাদেশে বড় আলেমের সংখ্যাটা খুব কম না। তবে তাদের মধ্যে দুজন আলেমের প্রতি আমার দুর্বলতা ছোটবেলা থেকেই একটু বেশি। তাদেরই একজন মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ.। কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের ঘাগড়া মাদরাসায় যখন পড়ি সম্ভবত তখনই আতাউর রহমান খানের নাম শুনি। তখন তিনি কিশোরগঞ্জ সদরের এমপি। কিন্তু কখনও তাঁকে দেখা হয়ে উঠেনি।

সম্ভবত ১৯৯৫ সালে তাঁকে প্রথম দেখি ইটনার একটি জনসভায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে এসেছেন। এই ইটনা থানারই একটি বনেদি পরিবারে তাঁর জন্ম। সেই জনসভায় সংক্ষিপ্ত কিছু কথা বলেছিলেন খান সাহেব রহ.। সেই কথাগুলো কী ছিল তা আজ আর মনে নেই।

তবে সেই বক্তব্যে ছিল যাদু। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা গিলেছিলাম। এরপরই কেন যেন তাঁর প্রতি মুগ্ধতা অনেক বেড়ে যায়। তিনি যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন সেখান থেকে আমাদের বাড়ির দূরত্বও খুব বেশি না। আর সেই হাতকবিলা গ্রামে আমাদের নতুন-পুরোনো অনেক আত্মীয়-স্বজন থাকায় খান সাহেব এবং তাঁর পরিবার সম্পর্কে নানা গল্প ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি।

২০০১ সাল। ভর্তি হই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জে। এই সেই জামিয়া ইমদাদিয়া যার প্রতিটি ইট-পাথরে লেগে আছে মাওলানা আতাউর রহমান খান ও তাঁর বাবা আহমদ আলী খান রহ.-এর নাম। জামিয়ায় ভর্তির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আতাউর রহমান খানের মতো স্বপ্নের মানুষদের সান্নিধ্য।

তিনি জামিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল। গায়ে সফেদ জামা, মাথায় কিশতি টুপি, মুখে পান, ঠোঁটে এক চিলতে হাসি নিয়ে তিনি যখন জামিয়ার গেইট দিয়ে ঢুকতেন তখন অজানা এক মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। তিনি আসতেন, নিজের রুমে গিয়ে কিছু সময় বসতেন, কিছু সময় দফতরে কাটাতেন, আবার চলে যেতেন।

দাওরা ও মিশকাত জামাতে তাঁর দুটি ক্লাস ছিল। সেই বছর আমাদের জালালাইন জামাতে কোনো ক্লাস ছিল না তাঁর কাছে। তবে মাঝে মাঝে আমাদের বিশেষ অনুরোধে সন্ধ্যার পর আসতেন; উন্মুক্ত ক্লাস হতো। যেকোনো বিষয়ে যে কেউ প্রশ্ন করার সুযোগ পেতো সে ক্লাসে।

প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর এতো গোছালো, যৌক্তিক ও সাবলীলভাবে দিতেন যে আমরা অবাক হয়ে থাকিয়ে থাকতাম। একজন মানুষ এতো বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী কিভাবে হতে পারে তা ভেবে কূল পেতাম না।

পরের বছর মিশকাত জামাতে খান সাহেব আমাদেরকে পড়িয়েছেন আকিদাতুত তাহাবী কিতাবটি। আকিদা একটি জটিল বিষয়। এ ব্যাপারে অনেকেই কূল-কিনারা করতে পারেন না। সবকিছুর পরও আকিদা নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু খান সাহেব হুজুর আমাদেরকে যেভাবে কিতাবটি পড়ি