সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

চেতনার বাতিঘর শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।নাজমুল হুদা মাহী।।

‘পুষ্প কাননের পাশ দিয়ে যাও,
ফুল প্রেমিক হবে’।

ভারত উপমহাদেশে নববী ইলমের বাগানে যতগুলো ফুল সুবাস ছড়িয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ.।

তিনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের বিজ্ঞ পণ্ডিত, এবং উনবিংশ শতাব্দীর একজন মুজাদ্দিদ বলে বিবেচিত হন। মহান রব্বুল আ'লামীনের স্বর্গীয় নূরের এক প্রতিচ্ছবি ছিলেম শাহ আব্দুল আজিজ রহঃ। তিনি ইলমে রুহানীর দুর্দম্য কুঞ্জ ও ইলমে মা'রিফাতের কুলহীন সাগরের মনি-মুক্তা ছিলেন।

জন্ম,বংশ ও পিতৃ পরিচয় :
শাহ আবদুল আজিজ ২৫ রমাদান, ১১৫৯ হিজরি (১১ অক্টোবর, ১৭৪৬) সনে মুঘল সম্রাট মুহাম্মাদ শাহের (১৭১৯-১৭৪৮) শাসনামলে দিল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। দিল্লী ছিল তখন মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী। তিনি শাহ ওয়ালি উল্লাহ এর জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন।

তার পিতা শাহ ওয়ালিউল্লাহ যখন মারা যান তিনি তখন মাত্র ১৭ বছরের যুবক। পিতার মৃত্যুর পর তিনি হাদিসের শিক্ষক হিসেবে পিতার উত্তরাধিকারী হন এবং পরবর্তীকালে দিল্লির বিখ্যাত মুহাদ্দিসে পরিণত হন। তিনি একাধারে মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং মুজাদ্দিদ ছিলেন।

তাঁর বংশ ও পরিবার পবিত্র ইলমে হাদিস এবং ফিকহের ক্ষেত্রে এক অনন্য মর্যাদার স্থান দখল করেছিলো।
তিনি তার পিতা শাহ ওয়ালীউল্লাহ এর যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন নকশবন্দি সুফি।
তাঁর প্রকৃত নাম আব্দুল আজিজ। কিন্তু ইতিহাসের পাতাগুলোতে তাঁর নাম গোলাম হালীম বলেও সুখ্যাতি রয়েছে।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা-প্রশিক্ষণ :
তিনি শিক্ষক হিসাবে তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। তিনি তাঁর পিতা হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভীর (রহঃ) কাছ থেকেই সর্বস্তরের জাহেরি ও বাতেনি ইলম গ্রহণ করেছেন।

বাল্যকালেই কুরআন মাজীদ হিফজকরেন, তাজবীদ ও ক্বেরাত শিক্ষা করেন।এগার বছর বয়সে তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়। তার পিতা স্বীয় শিষ্যদের মধ্যে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে তাঁর শিক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। মাত্র দুইবছরে তিনি আরবি ভাষায় এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিষ্ময়কর দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর স্বাভাবিক উদ্যম ও মেধার তুলনা বিরল।

অতঃপর পিতার দরসে তিনি অংশগ্রহণকরেন। এই দরসে শুধু আলিম সমাজে খ্যাতিমান স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ছাত্ররা অংশগ্রহণ করতেন। ষোল বছর বয়সে তিনি তাফসির, হাদীস, আকায়েদ,ফিক্বহ, উসুল, মানতিক, জ্যামিতি, গণিত,জ্যোতির্বিদ্যা, ইতিহাস, ভূগোলইত্যাদি বিষয়ে বুৎপত্তি অর্জন করেন। কিন্তু তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল কুরআন à