সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

মনের আয়নায় ছিলেন, আছেন, থাকবেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।মুহিব্বুল্লাহ কাফি।।

১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ রোজ শুক্রবার বাদ মাগরিব হাঁটছি রাস্তায়। আমার সঙ্গে হাঁটছে আলাউদ্দিন। ওর সাথে অনেকদিন পর দেখা। তাই কতো কথাই না আমাদের চার পাশ ঘুরপাক খাচ্ছিলো। একপর্যায়ে কথা উঠলো হাটহাজারি মাদরাসার বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে। ছাত্রদের আন্দোলন ও দাবি নিয়ে।

হাটহাজারি মাদরাসার বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সরকারের মাদরাসা বন্ধের ঘোষণা নিয়ে। কথা বলতে বলতে মাঠের এককোণে গিয়ে বসলাম আমরা দুজন।

বিরস গলায়, দুঃখ ভারাক্রান্ত স্বরে আমি বলে উঠলাম, দুই হাজার বিশ সালটা কেমন জানি বিষময় হয়ে গেলো। সবচে ক্ষতি হয়েছে করোনাভাইরাস আসায়। বিশ্বের মানচিত্রে বড়ো ধরনের কালো দাগ এঁকে দিয়ে গেলো এ ভাইরাস ।

আমাদের ক্ষতিটাও কম হয়নি। বললো আলাউদ্দিন। সেই ২০১৯ থেকে শুরু করে দুই হাজার বিশের আজ অবধি আমাদের কতো বড়ো বড়ো মুরুব্বিগণ চলে গেলেন! ক বড়ো বড়ো শায়খুল হাদিস চলে গেলেন না ফেরার দেশে। দরসগাহ থেকে শুরু করে খানকাহ,মাঠ-ময়দান খালি করে চলে গেলেন পরকালে। আমাদের কাঁদিয়ে ওই না ফেরার দেশে!

শুধু কি চলে গেলেন! আলাউদ্দিনকে থামিয়ে বলে উঠলাম আমি। একের পর এক আমাদের মুরুব্বিরা চলে যাওয়ায় আমাদের মনের ভেতর শোকের যে ঘা জন্মেছে তা যেনো শুকাবার জো-ই পাচ্ছে না। এক ঘা শুকাবার আগেই নতুন আরেক ঘা পয়দা হচ্ছে মনের কিনারায় অন্য আরেক মুরুব্বি চলে যাওয়ায়।

- তুই কি লক্ষ করেছিস! এ কমাসে আমাদের এতিম করে কতো মুরুব্বিরা চলে গেলেন। বললো আলাউদ্দিন।

- আমি বললাম, হুম। অনেক। যেমন, শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলি রহ. আল্লামা হবিগঞ্জী রহ. মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারী রহ. মাওলানা আনোয়ার শাহ কিশোরগঞ্জী রহ. সহ আরো অনেক বড়ো বড়ো উলামায়ে কেরামগণ চলে গেলেন এ কয়েকমাসের ভেতরই।

- জানি না যারা আমাদের মুরুব্বি আছেন তাদের মধ্যে এবার কে বা কারা চলে যান! ব্যাথিত গলায় বললো আলাউদ্দিন।
বলা তো যায় না, শাহ আহমদ শফি হুজুরও চলে যেতে পারেন এবার। লাগামহীন মুখে হঠাৎ আমি বলে ফেললাম। এ কথা বলে কেমন জানি আমি বোকা বনে গেলাম।

চোখের পলক স্থির করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আলাউদ্দিন। বললো,কী বললি! বিবশতা এঁটে গেলো তার মুখাবয়ে। সে প্রস্তুত ছিলো না আমার এমন অকথার। মুখের লাগাম টেনে বললাম, ইন্না-লিল্লাহ! এটা কী বললাম! আল্লাহ মাফ করুন। দুআ করি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা যেনো তাঁর নেক হায়াত দরাজ করেন। আমিন। বলে উঠলো আলাউদ্দিন।

দুজনের কথোপকথনের মধ্যেই এশার আজান ভেসে আসলো। আমরা মসজিদের দিকে পা বাড়ালাম। নামাজ শেষে ইমাম সাহেব বলতে লাগলেন, দেশের বরেণ্য আলেম,লাখ লাখ আলেম গড়ার কারিগর, হাটহাজারি