আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: কলেজের দুই সহপাঠীর মাধ্যমে ইসলামের সঠিক রূপ জানতে পারেন মার্কিন নাগরিক মিস মালিক। ড. মরিস বুকাইলির ‘বাইবেল, কোরআন ও বিজ্ঞান’ বইটি পড়ে ইসলাম সম্পর্কে সংশয় দূর হয় এবং মুসলিম হন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর ঘর ছাড়তে হয়েছিল এই নওমুসলিম নারীকে। জীবনের সেই সংকটকাল সম্পর্কে তিনি বলেন—
আমি একজন নওমুসলিম নারী। আমেরিকার ভার্জিনিয়া রিচমন্ডে বেড়ে উঠেছি। এক বছর আগেও কোনো মুসলিমের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। আমি জানতামও না যে আমার শহরে ইসলামিক সেন্টার আছে। যা হোক, আমি ইসলামের প্রতি খুবই কৌতূহলী ছিলাম; কিন্তু পড়ার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
অবশ্য বিশ্বকোষসহ অন্য বই পড়েছিলাম। তবে তা ছিল অমুসলিমদের লেখা। তারা বলেছে, মুহাম্মদ সা. সপ্তম শতাব্দীতে কোরআন রচনা করেছেন, মুসলিমরা কালো পাথরের পূজা করে, ইসলাম নারীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায়। তারা আরো বলে, মুহাম্মদ সা. বাইবেল নকল করেছেন, ইসলাম তরবারির জোরে প্রসার লাভ করেছে এবং সব মুসলিম ছিল আরব। একটি বইয়ে এটাও দাবি করা হয়েছে যে ‘আল্লাহ’ শব্দটি ‘আল-লুত’ থেকে নেওয়া। লুত হলো প্রাচীন আরবের চন্দ্রদেবী। নাউজুবিল্লাহ! এর সবই ছিল মিথ্যা। এরপর আমার কলেজে দুজন পাকিস্তানি মুসলিম নারী এলেন। তাঁদের সঙ্গে আমার সখ্য হলো এবং তাঁদের সব ধরনের প্রশ্ন করতে শুরু করি।
১২ বছর বয়সেই আমি খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করি। সুতরাং আমার ভেতর বিশ্বাসের কোনো লড়াই ছিল না। আমি জীববিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম এবং আমার কোনো ধর্ম ছিল না। তারা যা বলেছিল তা আমাকে অবাক করেছিল। আমি বুঝতে পারি যে ইসলাম সম্পর্কে আমার পূর্বধারণাগুলো মিথ্যা ছিল। এরপর আমি গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ি এলাম। আমার নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট হলো এবং আমি প্রতিদিন ৭-১১ ঘণ্টা কাজ করতাম। যে দোকানে আমি কাজ করতাম সেখানে একজন কালো বোরকাপরা নারী এলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে কোথায় ইবাদত করে। সে যখন বলল—যে সড়কে আমি কাজ করি সে সড়কেই একটি ইসলামিক সেন্টার আছে। আমি বিস্মিত হলাম।
পরের দিন আমি ইসলামিক সেন্টারে গেলাম। কিন্তু সেখানে কেউ ছিল না। পরের দিন আবার গেলাম—সম্ভবত দিনটি শুক্রবার ছিল। সেখানে কয়েকজন মানুষ পাওয়া গেল। একজন পুরুষ আমাকে জানালেন পরের সপ্তাহে দুপুরে গেলে আমি হয়তো কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলতে পারব। সে যে দুপুর বলতে জোহরের নামাজের সময় বুঝিয়েছ