বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭


লেখক-পাঠকের মিলনে প্রাণবন্ত ইসলামি বইমেলা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

শুক্রবার বিকেল-সন্ধ্যাটা ছিল লেখক-পাঠকদের আবেশ-আবেগের মুহূর্ত। এতদিন লোক সমাগম কম হওয়ার যে অভিযোগ ছিল তা পুরোটাই বদলে দিয়েছে গত কালের চিত্র। গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক জনসমাগম হলেও গতকাল যে চিত্র ছিল কবিতার ভাষায় বলতে গেলে ‘তিল ঠাঁই আর নাহিরে’ অবস্থা।

পুরো মেলাজুড়ে লেখক-পাঠকের ভিড়। কোথাও কোথাও লেখককে ঘিরে জটলা। অটোগ্রাফ নিতে, লেখকের মুখ থেকে কিছু শুনতে যেন মুখিয়ে আছেন পাঠকরা।

[caption id="" align="alignnone" width="275"]May be an image of 4 people, people standing and indoor প্রকাশকদের সাথে কথা বলছেন সাহিত্যিক শরীফ মুহাম্মদ। ছবি লেখেকের ফেসবুক ওয়াল থেকে।[/caption]

বই মেলায় তরুণ ও প্রবীণ সব লেখকের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল গতকাল। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ বারান্দায় জমেছিল সময়ের আলোচিত ও প্রতিথযশা সাহিত্যিক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সায়মুম সাদি-সহ আরো অনেকের আড্ডা। সেই আড্ডার সৌরভ-সান্নিধ্য নিতে উন্মুখ ছিলেন পাঠকরা।

আড্ডা শেষে স্টলে স্টলে গিয়ে প্রকাশকদের খবর নিয়েছেন লেখক শরীফ মোহাম্মদ ও অনলাইন একটিভিস্ট সাইমুম সাদি। পাঠকদের বই কিনতেও উৎসাহী করেছেন তারা।

নিজের শৈশবে দেখে আসা ইসলামী বইমেলা ও বর্তমানের চিত্র দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন লেখক শরীফ মুহাম্মদ। এই মেলা আরো সমৃদ্ধ হবে প্রাণের মেলায় পরিণত হবে এমন প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

এদিকে ফেসবুকে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সব সময় অ্যাক্টিভ তরুণ লেখক ও অনুবাদক আব্দুল্লাহ আল-ফারূককে ঘিরেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। কথা সাহিত্যিক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর, লেখক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, আমিন ইকবাল-সহ আরো আনেকের উপস্থিতি  প্রাণবন্ত করে তুলেছে বইমেলা। একেবারে তরুণ লেখক ইমরান রায়হানকেও দেখা গেছে বইমেলায়।

ইসলামি বইমেলায় কি ধরণের বই খুঁজছেন পাঠকেরা?

বই মেলায় আগত পাঠকেরা আসলে কি ধরনের বই কিনতে পছন্দ করছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বেশ কয়েকজন পাঠকের সাথে কথা বলেছেন প্রতিবেদক।

মোহাম্মদ আবীর নামে একজন পাঠক বন্ধুবান্ধব নিয়ে এসেছেন বাড্ডা থেকে। ইসলামী বই মেলায় এই প্রথম এসেছেন তিনি। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের যে ইসলামী বইমেলা চলছে শায়খ আহমদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টের আগে এ বিষয়ে জানতেেই না তিনি। মেলায় এসে তার অনেক ভালো লাগছে। এতদিন শুনে এসেছেন মেলায় লোকসমাগম অনেক কম, কিন্তু এখানে এসে একদম ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। মেলার আরো উন্নতি কামনা করেছেন তিনি। আরো পরিসরে এই মেলা আয়োজন করা হোক তেমনটাই কামনা করেছেন এই পাঠক।

[caption id="" align="alignnone" width="430"] বন্ধুদের সাথে ইসলামি বইমেলায় আবির।[/caption]

ইসলামী বইমেলা ও একুশে বইমেলায় বই কেনার ক্ষেত্রে কোন ধরনের পার্থক্য আছে কি না এবং কি ধরনের বই কিনতে এসেছেন এখানে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে মূলত ইসলামী বিধি-বিধা ও বিভিন্ন আরব শায়েখদের অনুবাদ করা বই কিনতে এসেছেন তিনি।

উত্তরা থেকে ভাই ও বোনদের সাথে এসেছেন রুহুল আমিন নামে আরও এক পাঠক। সপরিবারে বই মেলায় এসে অনেক ভালো লাগছে বলে জানান তিনি। তিনি বলছেন বইমেলায় সব ধরনের বই কিনতে পছন্দ করেন তিনি। তবে এ ক্ষেত্রে সাহিত্যের দিকটা প্রাধান্য থাকে। এখানে এসেছেন তিনি ইসলামী সাহিত্যের বইগুলো কেনার জন্য, তবে যেহেতু ইসলামি বইমেলা তাই ইসলামের বিভিন্ন বিধি-বিধান এবং ইসলাম সংক্রান্ত বিভিন্ন বইগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।

রুহুল আমিনের সাথে এসেছেন তার ভাই আবু সাঈদ। ইসলামি বইমেলা নিয়ে খুব একটা প্রচারণা না থাকায় তার ভিতরে বেশ আক্ষেপ লক্ষ করা গেল। তিনি বলছেন, এত সুন্দর একটা ইভেন্ট শুধুমাত্র প্রচারণা না থাকার কারণে মিস করছেন মানুষজন।

[caption id="" align="alignnone" width="357"] সপরিবারে ইসলামি বইমেলায় রুহুল আমিন ও আবু সাইদ।[/caption]

এদিকে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বই মেলায় কওমি ঘরানার সাহিত্যিকদের বই বেশি খুঁজছেন। তবে ইসলামি সব প্রকাশনীর স্টল না থাকায় কওমি ঘরণার প্রথম সারির সাহিত্যিক যেমন উবায়দুর রহমান খান নদভী, শরীফ মুহাম্মদ, যাইনুল আবেদিন, ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী-সহ আরো অনেকের বই পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের ‌।

মেলায় আসা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন নামে একজন বলেছেন, ইসলামিক বই মেলা তবে এখানে সব ইসলামী প্রকাশনীগুলোর বই পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি নাম উল্লেখ করে বলেন, রাহনুমা আল-আজহার, মাকতাবাতুল আশরাফসহ যেসব প্রকাশনীতে সময়ের আলোচিত লেখক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, যাইনুল আবেদিন, শরীফ মুহাম্মদের বই পাওয়া যায়, এমন প্রকাশনীগুলোর উপস্থিতি নেই বইমেলাতে। এর আগে এসে বেশ কয়েকটি ইসলামী প্রকাশনির বই খুঁজেও তিনি পাননি। বাহির থেকে কিনতে হয়েছে। তার ভাষায়, ‘বইমেলা আরো সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন’।

এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ