বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭


জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে মর্গে স্বজনরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: রাজধানীর সোয়ারীঘাট এলাকার রুমানা সুজ লিমিটেড কারখানায় বৃহস্পতিবার রাতের অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ শ্রমিকের পরিচয় শনাক্ত করতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসেছেন স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে রুমানা সুজ কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ করে রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শুক্রবার ভোরে পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ই‌লিয়াস হো‌সেন নিহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান নিহতরা হ‌লেন, মা‌নিকগঞ্জ সদ‌রের আইমারা গ্রা‌মের মৃত আব্দুর রশী‌দের ছে‌লে আ‌মিনুর ইসলাম (৩৫), চাঁদপু‌রের কচুয়া উপ‌জেলার বাইছড়া গ্রা‌মের আবুল হা‌সেম মির্জার ছে‌লে ম‌নির হো‌সেন (৩২), ব‌রিশা‌লের মুলাদী উপ‌জেলার ছ‌বিপুর গ্রা‌মের সেকান্দার মৃধার ছে‌লে আব্দুর রহমান রু‌বেল (৪০), কি‌শোরগঞ্জের বা‌জিতপুর উপ‌জেলার উলুকা‌ন্দি গ্রা‌মের শহর আলীর ছে‌লে শামীম মিয়া (৩৫), শেরপুরের শ্রীবর্দী উপ‌জেলার চক্ক‌রিয়া গ্রমের মৃত সাইফুল ইসলামের ছে‌লে কামরুল হাসান কা‌মিরুল (২৬)।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচয় দাবি করা হলেও তা শতভাগ নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। কারণ মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মক বিকৃত হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ী ই‌লিয়াস হো‌সেন ব‌লেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১টার দি‌কে ওই কারখানা‌টি‌তে আগু‌নের সূত্রপাত হয়। এ সময় কারখানার ভেতর থাকা শ্রমিক‌দের আর্তচিৎকার শু‌নে মানুষ এ‌গি‌য়ে গে‌লেও আগু‌নের তীব্রতায় ভেত‌রে প্রবেশ কর‌তে পা‌রে‌নি কেউ। পরে ফায়ার সা‌র্ভিস এ‌সে আগুন নিয়ন্ত্রণে আন‌লেও ততক্ষ‌ণে সব শেষ হ‌য়ে গে‌ছে। প‌রে পোড়া ও বিকৃত লাশ হাসপাতা‌লে নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আগুন লেগেছিল, হতভাগ্য সেই পাঁচ শ্রমিক ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই শ্রমিকরা দীর্ঘ‌দিন কারখানা‌টি‌তে আবা‌সিক থে‌কে কাজ কর‌তেন।’

অ‌গ্নিকা‌ন্ডের প‌রে ওই কারখানা‌টির মা‌লিক হাজী রফিক মিয়া পলাতক র‌য়ে‌ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ভবনটি মূলত দুতলা হলেও একতলার ওপর পাটাতন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের থাকার জন্য খোপ তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই নিহত পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পুড়ে যাওয়া জুতার কারখানার আশপাশে একাধিক কেমিক্যালের দোকানের রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোমানা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় বার্মিজ ও স্পন্সের জুতা তৈরি হত। কারখানাটিতে জুতা তৈরিতে ব্যবহৃত রাবার, প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল ভর্তি অনেক ড্রাম ছিল। এসব দাহ্য পদার্থের কারণেই আগুন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।

আগুনে কারখানাটির পাশে থাকা মদিনা বাজার নামে একটি কাঁচাবাজারও আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বাজারে থাকা সব ধরনের মালামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পুড়ে গেছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইড) ক্রাইম সিন।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের প্রধান পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। কেমিক্যাল সাদৃশ্য কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। এগুলো সিআইডির রাসায়নিক ল্যাবে পরীক্ষা করলে বলা যাবে আসলে এগুলো দাহ্য পদার্থ ছিল কি-না।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ছাড়া মরদেহগুলো শনাক্ত করা যাবে না।’

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে কী কারণে বা কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে প্রচুর পরিমাণে রাবার জাতীয় কাঁচামাল পাওয়া গেছে। রাবার এক ধরনের পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ। এছাড়াও ডিওপি তেল মজুদ ছিল, যা দাহ্য পদার্থ। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।’

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ