সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মুসলিম পরিচয়ের অন্যতম রক্ষাকবচ!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।।

ইসলামের মধ্যে জাত-পাত, বংশ-গোত্র, উঁচু-নীচুর কোনো ধারণা নেই। ইসলাম কোনো ধরনের কৌলিন্য প্রথা বা আশরাফ-আতরাফের ধার ধারে না। ইসলামের সীমারেখায় সকলে সমান। আরব-আজম, হিন্দুস্তান আর মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এক পৃথিবীর সকল মুসলিম একই সমান, কোনো বৈষম্য নেই। হোক সে কালো বা সাদা, হোক সে আজকে কালেমাপড়া মুসলিম কিংবা শত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় অবধারিত মুসলিম। ইসলাম কারো মধ্যে কোনো ধরনের প্রান্তিক দেয়াল বা প্রতিবন্ধকতা তৈরির সুযোগ দেয় না।

এগুলো তত্ত্বীয় কথা। কিন্তু ঐতিহাসিক চোখ দিয়ে যদি আমরা আমাদের ইতিহাস বিচার করি তাহলে আমাদের চোখে মুসলিমদের মধ্যে আশরাফ-আতরাফ (উঁচু-নীচু) নির্ধারণের একটা প্রচ্ছন্ন ধারা চোখে পড়বে। আরবরা যেমন কোনোদিনই অনারব মুসলিমদেরকে তাদের সমকক্ষ মনে করে না, তেমনি আমাদের এই দেশেও ইসলাম আগমনের পর থেকেই আশরাফ-আতরাফের একটা ধারা প্রবল ছিল, এই কিছুদিন আগ পর্যন্তও।

আমরা আজকে এই স্বাধীন বাংলাদেশে বসবাস করে সেই অঘোষিত ধারাকে যদিও অনুভব করতে পারছি না, কিন্তু সে ধারা যে একটা সময় বেশ প্রবল ছিল সেকথা অস্বীকারের জো নেই।

ইতিহাসটা একটু খোলা চোখে দেখার চেষ্টা করি। আরবে ইসলাম আগমনের কিছুদিন পরই এই বঙ্গদেশে ইসলাম আগমন করে, এটি প্রায় সতঃসিদ্ধ সত্য। আরব-পারস্য-তুর্কিস্তানের অনেক সুফি, দরবেশ, ধর্মপ্রচারক এই বঙ্গ অঞ্চলে এসে নিভৃতে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। তাদের দাওয়াতের ফলে এখানকার ‘নিম্নবর্ণের’ হিন্দু-বৌদ্ধরা ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় তাদের সংখ্যা ছিল যদিও হাতেগোনা, তবে সুফি-দরবেশদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় দিন দিন বঙ্গের নিভৃত নানা পল্লিতে ইসলামের পরিধি বিস্তৃত হতে থাকে।

এই ধারা চলতে থাকে তুর্কি যোদ্ধা ইখতিয়ারুদ্দিন মুহাম্মদ খিলজি বাংলার রাজধানী গৌড় বিজয়ের আগ পর্যন্ত। তুর্কিদের বিজয়ের পর এ অঞ্চলে মুসলিম ধর্মপ্রচারকদের আগমন বেড়ে যায় এবং বাংলার নানা অংশে তারা স্বতন্ত্রভাবে দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন। এভাবে শতাব্দী পার হয়ে যায়। একদিকে মুসলিম শাসকদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা, অন্যদিকে সুফি-দরবেশদের দাওয়াতের ফলে বঙ্গ অঞ্চলের হাজার হাজার নিম্নবর্ণের হিন্দু-বৌদ্ধ ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে।

বঙ্গ অঞ্চলের জন্য এ ছিল এক স্বাভাবিক প্রবণতা। কারণ ব্রাহ্মণ ও হিন্দু-বৌদ্ধ শাসকদের নিপীড়নে নিম্ন