মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


গ্যাসের দাম দ্বিগুণের প্রস্তাব, দুই চুলা ২১০০ করতে চায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

একচুলা ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা, দুই চুলা ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০০ টাকা করার প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)।

নজিরবিহীন উচ্চমূল্যের এই প্রস্তাবটি সোমবার (১৭ জানুয়ারি) কমিশনে জমা পড়েছে সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৃহত্তর নোয়াখালী কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলায় বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে কোম্পানিটি।

অন্যান্য কোম্পানিগুলোকেও অভিন্ন প্রস্তাব জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পেট্রোবাংলা থেকে। দু’একদিনের মধ্যে প্রস্তাব জমা পড়তে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বাখরাবাদ তার প্রস্তাবে আবাসিকে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি ঘনমিটারের বিদ্যমান মূল্য ১২.৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭.৩৭ টাকা, সিএনজিপ্রতি ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬.০৪ টাকা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯.৯৭ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৭.০২ টাকা, ১০.৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩.২৪ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা থেকে ৩০.০৯ টাকা, চা শিল্পে ১০.৭০ টাকা বাড়িয়ে ২৩.২৪ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় থাকা বিদ্যমান দর ৪.৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৬৬ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাড়তি বিদ্যমান গড় ৯.৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০.৩৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অতীতে কখনই এতো বেশি পরিমাণে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়নি। যে কারণে একে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি ঘনমিটার এলএনজি (তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাস) আমদানি মূল্য ৩৬.৬৯ টাকা, মুসক, অগ্রিম আয়কর, ফিন্যান্সিং চার্জ, ব্যাংক চার্জ ও কমিশন, রি-গ্যাসিফিকেশন চার্জ, অপরেশনার ব্যয়, ভোক্তা পর্যায়ে উৎসে কর সবমিলিয়ে খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫০.৩৮ টাকা। যে কারণে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ানোর প্রয়োজন।

অন্যদিকে গ্যাস কোম্পানিগুলোর মাদার প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা তার লিখিত প্রস্তাবে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডের গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারের গড় ক্রয়মূল্য পড়ছে ১.২৬ টাকা, শেভরনের থেকে কিনতে হচ্ছে ২.৮৯ টাকা, তাল্লো থেকে ৩.১০ টাকা করে।

অন্যদিকে এলএনজির প্রকৃত ক্রয়মূল্য ৩৬.৬৯ টাকা অন্যান্য চার্জ দিয়ে ৫০.৩৮ টাকা পড়ছে। দৈনিক ৮৫০ মিলিয়ন ঘন ফুট এলএনজি আমদানি বিবেচনায় এই দর। আমদানিকৃত এলএনজির সঙ্গে দেশিয় গ্যাসের মিশ্রণ শেষে গড় খরচ দাঁড়াবে ৬৫ হাজার ২২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এই টাকা ভোক্তাদের কাছ থেকে তুলতে হলে প্রতি ঘনমিটারের বাড়তি গড় ২০.৩৫ টাকা করা নির্ধারণ করা জরুরি। এই দর দৈনিক ৮৫০ এমএমসিএফ এলএনজি আমদানি বিবেচনায়। আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকলে গড়মূল্য বেড়ে যাবে সেই হারে।

পেট্রোবাংলা ওই প্রস্তাবটি গত সপ্তাহে জমা দিয়েছিল বিইআরসিতে। আবেদন দাখিলের নিয়ম আইনসিদ্ধ না হওয়ায় ইতিমধ্যে ফেরত দিয়েছে বিইআরসি।ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর আইনি প্রতিষ্ঠান বিইআরসি। তারা প্রস্তাব পেলে প্রথমে যাচাই-বাছাই করে দেখেন। আবেদন যৌক্তিক হলে গণশুনানির মাধ্যমে দর চূড়ান্ত করে থাকেন।

এর আগে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের আবেদন জমা দেয়। সেগুলোও যথাযথ না হওয়ায় ফেরত দিয়েছে কমিশন। কমিশন বলেছে, আবেদনের সঙ্গে যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য যথাযথ কাগজপত্র জমা দিতে হবে। কোম্পানিগুলো বিষয়টি এড়িয়ে দায়সারা গোছের আবেদন দিয়েছিল।

এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দাম বেড়েই চলছে, অক্টোবরের দরপত্রে ৩৫ দশমিক ৮৯ ডলারের (এমএমবিটিইউ) যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন টেন্ডারে সর্বনিম্ন দর জমা পড়েছে ৫০ ডলার। আগের দরে চলতি অর্থবছরে ক্রয় বিক্রয়ের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নতুন দরে এলএনজি আনলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার আমদানি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

জ্বালানি বিভাগ চায় ভর্তূর্কি বাড়াতে। কিন্তু অর্থ বিভাগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভর্তূকি বাড়ানো সম্ভব না। বাজেট বরাদ্দ সাড়ে ১২ হাজার কোটির টাকার বাইরে অর্থ দেওয়া সম্ভব না। নিজেদের তহবিল থেকেই সমন্বয় করতে হবে। সে কারণে এখন দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো গত্যন্তর দেখছে না জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ