আবদুল্লাহ তামিম
নির্বাহী সম্পাদক>
দেশের অগ্রসরমান বিশ্বমানের ব্যতিক্রমধর্মী আদর্শ ইসলামি কওমি বিদ্যাপিঠ ‘গ্লোবাল কওমি এডুকেশন ইনস্টিটিউট’ এর শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও ১ম সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে অভিভাবক সমাবেশ ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম নানুপুর মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মুঈন উদ্দিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত চট্টগ্রাম নানুপুর মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক হযরত মাওলানা রফিক, উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মাদরাসার এ সভায় উপস্থিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জের ৪নং ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত কাউন্সিলর মোঃ নূর উদ্দিন মিয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মাদরাসার আসাদাযা ও উলামায়ে কেরাম।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নানুপুর মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক মাওলানা রফিক আহমদ বলেন, তিন শ্রেণির লোকের মধ্যে অবশ্যই তোমাদের গণ্য হতে হবে। হয়ত তোমরা আলেম হবে, তা না হতে পারলে আলেমের বাবা হবে, অন্যথায় আলেমদেরকে মুহাব্বত করবে। আলহামদুলিল্লাহ আজকে আমি যুগশ্রেষ্ঠ আলেম তৈরির কারখানা এ যুগউপযোগী প্রতিষ্ঠানে আসছি। ছোটছোট বাচ্চাদের আরবি ইংরেজি বক্তব্য শুনেছি। আমার অনেক আনন্দ লাগছে। এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে হওয়া দরকার। আমাদের দেশে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। কারণ এ ধরণের প্রতিষ্ঠানই সারা বিশ্বে ইসলাম প্রচার প্রসারে অনন্য ভুমিকা রাখতে পারে। মাওলানা মানফুজুর রহমান এ ব্যতিক্রমধর্মী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আল্লাহ তাকে দীনের জন্য কবুল করুন। এ মাদরাসাকে দিনদিন তারাক্কি দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাউন্সিলর মোঃ নূর উদ্দিন মিয়া বলেন, আজকে আমরা কিছু সংখ্যক লোক মনে করতাম মাদরাসার ছাত্ররা শুধু আরবি নিয়ে পরে থাকে। তারা মুয়াজ্জিন আর ইমাম হবে। কিন্তু আমার এ মাদরাসায় এসে চোখ খুলে গেছে। এ ধরণের ছাত্ররা জাতীর কাণ্ডারী হবে বলে আশা করি। এ ধরণের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আনাচেকানাছে আছে কি না আমার জানা নেই। তবে এ ধরণের প্রতিষ্ঠান হওয়া দরকার। আমি এ মাদরাসার উন্নতি অগ্রতিতে সবসময় পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা যারা এ মাদরাসার আশপাশে আছেন এ মাদরাসাকে আগলে রাখবেন বলে আমি আশাবাদি।
গ্লোবাল কওমি এডুকেশন ইনস্টিটিউট এর পরিচালক মাওলানা মানফুজুর রহমান এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রার লক্ষ উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, হিফজুল কোরআন এর পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসাটি একক সিদ্ধান্তে অগ্রযাত্রা শুরু হয়নি। দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামদের পরামর্শে এই দীনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
পরিচালক আরো বলেন, আজ বিদ্ধাশ্রমে গেলে দেখা যায় যারা বৃদ্ধাশ্রমে অবস্থান করছে অধিকাংশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কলেজে পড়ুয়া ডাক্তার ইন্জিনিয়ারদের ছেলে মেয়েদের পিতা মাতা। একজনও দেখাতে পারবেন না যার সন্তান মাদ্রাসার নুরানি পড়ে স্কুল কলেজে গিয়ে ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হয়েছে। বরং ঐসকল ইংলিশ মিডিয়াম গুলোতে কালেমা নামাজ তো নাই নাই নাস্তিকতার আখরায় ঘেরা। এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা শুরু করার উদ্দেশ্যে হলো ছেলেরা কোরআনের জ্ঞান অর্জন করবে।
সমগ্র বিশ্বে কোরআন হাদীস এর আলো প্রচার করবে ইংরেজি মাধ্যমে। যেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র গুলোতে কমন ভাষা ইংরেজি। অন্তত পক্ষে এই সকল প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা নাস্তিক হবে না। ছোট থেকেই কোরআনের বীজ বপীত হচ্ছে তাদের হৃদয়ে। আল্লাহ ও আল্লাহর হাবীবকে চিনছে সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করছে তারা।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত ৪/৫ বছরের কচি কাচা শিশুরা সুন্দর কোরআন তেলাওয়াত ও ইংরেজি অনুবাদসহ সুরা, অনর্গল আরবি, ইংরেজিতে বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করে।
-এটি