মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


ইসি গঠনে আনা আইনটি অসম্পূর্ণ: মেনন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: সরকার দেরিতে হলেও নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইন এনেছে বলে অভিনন্দন জানিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, তবে আইনটি অসম্পূর্ণ এবং এ কারণে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন এই মন্তব্য করেন।

মেনন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়ন-বাণিজ্য, অর্থ, পেশিশক্তি, বিশেষ করে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও নির্বাচন কমিশনের নিশ্চেষ্ট ভূমিকা সমগ্র নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে আস্থা সম্পূর্ণ বিনষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ব্যতিক্রমের নির্বাচন হয়েছে। দেশের মানুষ ব্যতিক্রমহীনভাবে এ ধরনের জাতীয় নির্বাচনই দেখতে চায়, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। এই সরকারকে বহাল রেখেই সেটা করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা ও নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি মানা এবং অর্থ, পেশিশক্তি ও প্রশাসনের ভূমিকা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ।

মেনন সংবিধান পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে বলেন, এ বছর সংবিধানের ৫০ বছর পূর্তি হবে। বঙ্গবন্ধু সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে যে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন, তা সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার আমলেই সংবিধানের দ্বিতীয় ও চতুর্থ সংশোধনী সংবিধানের মৌল বিষয়েরই পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। আর সামরিক শাসকেরা নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে আর পাকিস্তান আমলের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে ওই সংবিধানকে ভোঁতা ছুরি দিয়ে জবাই করেছিল।

মেনন বলেন, সংবিধানের দ্বাদশ ও পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানের মৌল চরিত্র কিছুটা ফিরিয়ে আনলেও এমন সব বিধি বর্তমান, যা সরকার পরিচালনায় প্রধান নির্বাহীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সংবিধানকে ধর্মীয় রূপ দিয়েছে। বিএনপি দ্বাদশ সংশোধনীর সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বিধান এবং সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার ‘নাম্বার ওয়ান এমাং দ্য ইকুয়াল’ ব্যবস্থায় ফিরে আসার জন্য দেশের তৎকালীন বিরোধী দলের উপনেতা, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আবদুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে আমাদের প্রস্তাবগুলো মানেনি।

সেই সময়ের বিএনপির মূল নেতাদের অন্যতম বর্তমানে এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ সম্প্রতি এই জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিন জোটের অঙ্গীকার অনুযায়ী সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসতে বিএনপিকে বাধ্য করতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনকে এমনকি পদত্যাগের হুমকি দিতে হয়েছিল। সংবিধানের ৭০ বিধি সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও তারা মানেনি। ফলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীন মত ব্যক্ত করতে পারেন না।’

মেনন বলেন, সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, মানবাধিকার, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে সংবিধানের পর্যালোচনা বিশেষ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ জন্য এই অধিবেশনেই সংবিধানের পর্যালোচনার জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ