মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি।।
অনুবাদ: সাঈদ আহমাদ খান নদভি
আজকাল মুসলমানদের উপর আরোপিত সবচে' আলোচিত কয়েকটি পয়েন্টের একটি হলো, গোশ্ত ভক্ষণ৷ অমুসলিমদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মুসলিমরা নির্মমভাবে প্রাণী হত্যার পর সেগুলোর গোশ্ত ভক্ষণ করে৷ এভাবে বিভিন্ন রকমের ভুল তথ্য প্রচার করে মানুষের হৃদয়ে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করছে তারা৷ তাই আজ এ মাসঅালা সম্বন্ধে আমাদের বিস্তর জানাশোনা থাকা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রয়োজন৷
ইসলাম ধর্মে প্রাণী জবেহ ও গোশ্ত ভক্ষণ
ইসলাম যেমনিভাবে মানবজাতির শান্তি ও সম্মানে বিভিন্ন বিধি- নিষেধ জারি করেছে; তেমনি বাকহীন নিরীহ প্রাণীর প্রতিও সদয় ব্যবহারের নির্দেশ প্রদান করেছে৷ ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের লোকেরা ব্যবসা- বাণিজ্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সফর করতো৷ প্রাণীসমূহকে তারাও সফরের বাহন হিসেবে ব্যবহার করতো৷ এগুলোর দুধ পান করতো৷ গোশ্ত ভক্ষণ করতো৷ তা সত্ত্বেও প্রাণীসমূহের প্রতি নির্দয় আচরণ করতো৷
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন হাদিসে প্রাণীকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন৷ প্রাণীকে মারতে বারণ করেছেন৷ (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিসে নাম্বার: ২৫৬৪)
জাহেলি যুগে মানুষ প্রাণীকে পরস্পর লড়িয়ে খেলা দেখাতো৷ তামাশা করতো৷ রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকেও নিষেধ করেছেন৷ (দেখুন, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৬২)
প্রাণীর দেখাশোনা ও খাবার- দাবারের প্রতিও লক্ষ রাখতে বলেছেন৷ একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটকে জীর্ণশীর্ণ ক্ষুধার্ত দেখতে পেলে বললেন, প্রাণীর ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো৷ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৪৮)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা সবুজ- শ্যামল এলাকা দিয়ে সফর করলে প্রাণীকে ধীরে ধীরে হাঁকাও, যাতে তারা এ থেকে নিজেদের ক্ষুধা নিবরণ করতে পারে৷ আর মহামারীর এলাকা হলে দ্রুত হাঁকাও, যাতে এর প্রভাব তাদের শরীরে না পড়ে! (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৬৯)
এভাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাণী থেকে তাদের ক্ষমতার বাহিরে কষ্টদায়ক কোনো কাজ নিতে বারণ করেছেন৷ এ জন্যই তিনি প্রাণীকে স্টেজ বানাতে নিষেধ করেছেন৷ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৬৯)
চলাবস্থায় বোঝা বহন করা যতোটা সহজ; দাঁড়িয়ে বহন করা এর চেয়ে অনেক কঠিন৷ তাই নবিজি প্রাণীকে স্টেজ বানাতে নিষেধ করেছেন৷ কারণ, স্টেজ বানালে তাদেরকে বহন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে রাখা হবে৷
এমনকি প্রাণীকে কষ্ট দেওয়ার কারণে পরকালেও এর শাস্তি ভোগ করতে হবে৷ রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিন একজন নারীকে শুধু এ কারণেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, সে একটি বেড়ালকে অযথা বেঁধে রেখে কষ্ট দিয়েছিলো৷ আবার একটি পিপাসিত কুকুরকে পানি পান করানোর জন্যে এক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে৷ (সূত্র: বুখারি শরিফ, হাদিস: ২৩৬৫, ২৩৬৩, বাবু সাকয়িল মা)
কোনো পশু মানুষের ক্ষেতের ফসল খেয়ে ফেললে সেটাকেও হাদিসে সদকা বলা হয়েছে৷ (সূত্র: বুখারি শরিফ, হাদিস: ২৩৬০)
ইসলামে যদিও গোশ্ত খাওয়ার অনুমতি রয়েছে; কিন্তু এটা কোনো ফরজ কিংবা ওয়াজিব বিষয় নয়৷ কোনো উদ্দেশ্যহীন অকারণে পশু হত্যাও ইসলামে নিষিদ্ধ৷ এক ব্যক্তি একটি চড়ই পাখির বাচ্চা আটকে রেখেছিলো৷ বাচ্চাটির মা এতে অস্থির ছিলো৷ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন৷ এবং বললেন, বিনাকারণে একটি ছোটো পাখিকে মেরে ফেললেও এর জবাব দিতে হবে৷ (সুনানে কুবরা, নাসায়ি, হাদিস: ৪৫১৯)
ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র কোনো প্রাণীকেও আগুনে পোড়ানো নিষেধ৷ একবার পিঁপড়ের বাসার কাছে চুলা ধরানো হলো৷ তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে সাথে চুলা বন্ধ করার হুকুম দিলেন৷ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫২৬৮)
গোশ্ত ভক্ষণ বিভিন্ন ধর্মে
এতো কিছু সত্ত্বেও অনেকে ইসলামের উপর আপত্তি তুলে বলে, ইসলামে গোশ্ত খাওয়ার অনুমতি দিয়ে প্রাণীদের সাথে নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছে৷ কোনো কোনো হিন্দু ভাই তো মনে করে, ইসলামের মূল কাজই হলো, শুধু গোশ্ত ভক্ষণ করা!
এখানে প্রথমত মনে রাখা দরকার, হিন্দুস্তানের হিন্দু ধর্ম ছাড়া পৃথিবীর সকল ধর্মেই গোশ্ত খাওয়া জায়েজ গণ্য করেছে৷ এবং গোশ্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবীয় খাদ্য বলে আখ্যা দিয়েছে৷
ভারতীয় ধর্মসমূহের মধ্যেও জৈন ধর্ম ব্যতীত অন্য সকল ধর্মেই গোশ্ত ভক্ষণের অনুমতি বিদ্যমান ছিলো৷ বৌদ্ধ ধর্মেও গোশ্ত খাওয়ার অনুমতি ছিলো৷ পরবর্তীতে ভারতে অসংখ্য ধর্মের মধ্যকার নিরাপত্তা কামনায় অহিংসের কথা বলে তারা গোশ্ত ভক্ষণ পরিত্যাগ করে৷ তাই ধীরে ধীরে হিন্দু সমাজে এ কথা প্রসিদ্ধ হয়ে যায়, ধর্মীয়ভাবে গোশ্ত ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে! অথচ এটা তাদের নিজস্ব ইতিহাস ও ধর্ম সম্বন্ধে অজ্ঞতার পরিচয়৷
স্বয়ং বেদে পশু কুরবানি ও রান্না করার কথা পাওয়া যায়৷ ঋগ্বেদে আছে, হে ইন্দ্র দেবতা! তোমাদের জন্য ইশান ও বিষ্ণু দেবতা একশতো মহিষ রান্না করবে৷ (সূত্র: ঋগ্বেদ: ৬/ ১১- ১৭)
ঋগ্বেদে ঘোড়া, ষাঁড়, গাভী, বন্ধ্যা গরু ও মহিষকে দেবতার জন্যে কুরবানির কথা বলা হয়েছে৷ (ঋগ্বেদ, অধ্যায়: ২০/ ৭৮) মনুজি বিভিন্ন জায়গায় গোশ্ত ভক্ষণকে শুধু অনুমতিই দেয়নি; বরং এর অস্বীকারকারীকে পুনর্জন্মে নরকের শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন৷
মনুর বর্ণনা: গোশ্ত ভক্ষণকারী প্রতিনিয়ত শিকার করে এবং গোশ্ত খায়৷ এটা কোনো পাপের বিষয় নয়৷ কেননা গোশ্ত ভক্ষণকারী ও প্রাণী উভয়কেই এ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে৷ (সূত্র: মনু: অধ্যায়: ৫, শ্লোক: ৩০)
অন্য জায়গায় উল্লেখ রয়েছে, এক ব্যক্তি গোশ্ত ভক্ষণ করতে অস্বীকার করে৷ সে মৃত্যুর পরে একুশ জনম পর্যন্ত জানোয়ারের রূপে জন্মাবে৷ (মনু: অধ্যায়: ৫, শ্লোক: ৪৫)
মনুজি এটাও স্পষ্ট বলেছেন, পশুকে কুরবানির জন্য জবেহ করা হত্যার অন্তর্ভুক্ত নয়৷ তিনি বলেন, প্রভু নিজেই পশুকে কুরবানির জন্য সৃষ্টি করেছেন৷ যজ্ঞের বলিদানের নির্দেশ করা হয়েছে বিশ্বের কল্যাণের জন্যই৷ সুতরাং পশুকে যজ্ঞের নিয়তে জবেহ করা হত্যার অন্তর্ভুক্ত নয়৷ (মনু, অধ্যায়: ৫, শ্লোক: ৩৯, আরো দেখুন: মনুস্মৃতি, অধ্যা: ৩/ ২৬৮, মহাভারত: অনুসাশন ভৈরব, তেরোতম কিতাব, অধ্যায়: ৮৮)
স্বয়ং গান্ধিজিও বলেছেন, একটি সময় হিন্দু সমাজে পশু কুরবানি করা ও গোশ্ত ভক্ষণের প্রথা বিদ্যমান ছিলো৷ ডক্টর তারাচন্দ্রের বক্তব্য মতে, বৈদিক বলিতে পশু কুরবানি করা হতো৷
গোশ্ত ভক্ষণ ও সাইন্স
যে সত্তা মানুষ ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন, তিনি প্রতিটি সৃষ্টির স্বভাব- প্রকৃতিতে খাদ্যের বিভিন্ন সিস্টেম রেখে দিয়েছেন৷ মানুষের সৃষ্টি এমনভাবে করেছেন, যাতে তারা গোশ্ত ভক্ষণ করতে পারে৷
সাইন্সের বহু দৃষ্টিকোণই মানুষের সৃষ্টিগত গঠন হিসেবে গোশ্ত খাওয়ার কথা বলে৷ যেমন, ১- প্রতিটি প্রাণীর সৃষ্টিগত আকৃতিই বলে দেয়, তার খাদ্যভাস কী হতে পারে৷ কিছু প্রাণীর দাঁত ও মুখই এমন যে তারা উদ্ভিদ ও সব্জি ছাড়া অন্য কিছু খেতে পারে না৷ যেমন, গরু, ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর মুখে ধারালো দাঁত নেই৷ তাই এরা শুধু উদ্ভিদই খেতে পারে৷ সিংহ, বাঘের সবগুলো দাঁতই ধারালো৷ তাই এরা শুধু গোশ্তই খেতে পারে৷ কখনো উদ্ভিদ খেতে পারে না৷ কিন্তু আল্লাহ তাআলা মানুষকে দু'ধরণের দাঁতই দিয়েছেন৷ মানুষ উদ্ভিদ ও গোশ্ত সবই খেতে পারে৷ তাই মানুষের সৃষ্টিগত প্রকৃতিই বলে দেয়, মানুষকে গোশ্ত ও উদ্ভিদ, সবকিছু খাওয়ার উপযুক্ত করেই সৃষ্টি করা হয়েছে৷
২- প্রাণবিশিষ্ট সৃষ্টিজীবের শরীরে পাকস্থলী রয়েছে৷ এর মাধ্যমে খাদ্য হজম করা হয়৷ উদ্ভিদ ও ঘাষখোর প্রাণী গোশ্ত খেলে তাদের পেট ও পাকস্থলী তা সহ্য করতে পারে না৷ এমনিভাবে শুধু গোশ্তখোর প্রাণী উদ্ভিদ বা সব্জি খেলে তাদের পেটও তা মেনে নিতে পারে না৷ কিন্তু আল্লাহ তাআলা মানুষের পাকস্থলী এমনভাবে ফিট করেছেন, যেনো গোশ্ত ও সব্জি- উদ্ভিদ সবই খেতে পারে!
৩- মানুষের শরীরে যে শক্তির প্রয়োজন, তা শুধু সব্জির মাধ্যমে পুরা হয় না৷ গোশ্ত খাওয়ারও প্রয়োজন পড়ে৷ তাই সারাজীবন সব্জি খেলে শরীরে অনেক সময় বিভিন্ন রোগেরও তৈরি হয়৷ তখন বাধ্য হয়ে রোগনিরাময়ের জন্য গোশ্ত খাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে৷ তাই গোশ্ত খাওয়া মানুষের স্বভাব ও সৃষ্টিগত একটি প্রয়োজন৷
উদ্ভিদেরও রয়েছে প্রাণ
বর্তমান সাইন্স এটাও বলছে, যেমনিভাবে প্রাণীর মাঝে প্রাণ আছে, তেমনি উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে৷ স্বামী দিয়ানন্দজীও উদ্ভিদের মধ্যে প্রাণ থাকার কথা স্বীকার করেছেন৷ তো প্রাণী জবেহ যদি পাপ হয়, তাহলে উদ্ভিদ ও সব্জি খাওয়াও তো পাপ হওয়ার কথা!
প্রতিটি প্রাণীরই একটি নির্দিষ্ট সীমা পরিমাণ শ্রবণ শক্তি থাকে৷ যেমন, মানুষ ২০ থেকে ২০০০০ Hz (hearing range) পরিমাণের মধ্যে যে কোনো আওয়াজ শুনতে পারে৷ ২০ এর নীচে এবং ২০০০০ এর উপরে কোনো আওয়াজ মানুষ শুনতে পারে না৷ কুকুর ৪০০০০ Hz পর্যন্ত কোনো আওয়াজ শুনতে পারে৷ ৪০০০০ এর উপরের আওয়াজ শুনতে পারে না৷
আমেরিকার একজন গবেষক এমন এক যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যেটার মাধ্যমে মানুষ উদ্ভিদের আওয়াজও শুনতে পারে৷ এ যন্ত্র দ্বারা মানুষ এটাও বুঝতে পারে, কখন উদ্ভিদ পানির জন্য হাহাকার করে৷ মোটকথা আধুনিক ট্যাকনোলজি সাব্যস্ত করেছে, উদ্ভিদও খুশি- আনন্দ ও দু:খ- ব্যথা সবই উপলব্ধি করতে পারে৷ এবং খুশির সময় খুশি প্রকাশ করতে পারে আবার দু:খের সময় কাঁদতেও পারে৷
প্রাণীহত্যা 'মহাপাপ' হলে যারা গোশ্ত ভক্ষণকে নিষিদ্ধ বলে, তাদের একমাত্র যুক্তি হলো, গোশ্ত ভক্ষণ প্রাণীহত্যার অন্তুর্ভুক্ত৷ আর প্রাণীহত্যা মহাপাপ!
কিন্তু একবার চিন্তা করলে বুঝা যায়, সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি নিম্মস্তরের প্রাণীকে উচ্চস্তরের প্রাণীর জন্য খাদ্যস্বরুপ বানিয়েছেন৷ বনের বাঘেরা বনের পশু মেরে ভক্ষণ করে৷ সমুদ্রের প্রাণীরা জলের প্রাণী মেরে খেয়ে ফেলে৷
এমনিভাবে আপনি আপনার নিজের শরীর নিয়েও একটু চিন্তা করুন, আপনি যখন পানি কিংবা দুধ পান করেন, এটা তখন নিরাময়ক হয়ে আপনার শরীরে প্রবেশ করে শরীরের ভেতরে থাকা অগণিত জীবাণুর প্রাণকে ধ্বংস করে আপনাকে সুস্থ রাখে৷ এটাও তো এক প্রকার জীবহত্যার অন্তর্ভুক্ত৷ তাই অন্যায় ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে পশু জবেহকে জীবহত্যার পাপ মনে করলে আপনার জন্য তো জল পান করাও নিষিদ্ধ হওয়া দরকার!
সর্বোপরি কথা হলো, মানুষকে আল্লাহ পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠজীব বানিয়েছেন৷ পৃথিবীর অন্য সকল প্রাণীকে মানুষের সেবা, সুখ ও শান্তির জন্য সৃষ্টি করেছেন৷ কারণ, মানুষের সম্মানের সামনে আল্লাহর কাছে পৃথিবীর সকল প্রাণীই তুচ্ছ৷ কোনো প্রাণী হালাল হলে তাকে খাদ্য বানিয়ে মানুষের জন্য পেশ করেছেন৷ আবার কোনো প্রাণী বিষাক্ত ও হারাম বলে তা খেতে বারণ করেছেন ঠিক; কিন্তু মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহারেরও অনুমতি দিয়েছেন৷ এভাবে একটি সর্বোৎকৃষ্ট জাতি হিসেবে প্রাণী ভক্ষণ করায় তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ্য প্রমাণ মিলবে৷
একটি প্রশ্ন ও উত্তর
অনেকে প্রশ্ন করতে পারে, উদ্ভিদের মাঝে মাত্র দু'টি ইন্দ্রীয় আছে৷ অন্যদিকে প্রাণীর আছে পঞ্চইন্দ্রীয়৷ তাই উদ্ভিদ ভক্ষণ প্রাণী ভক্ষণ থেকে তুলনামূলক কম পর্যায়ের অপরাধ?!
কিন্তু তাদের এ প্রশ্ন নিতান্তই জ্ঞানহীনতার পরিচয় বহন করে৷ কারণ, ধরুন, আপনার ভাই বোবা ও বধির হয়ে গেলো৷ এরপর কেউ তাকে মেরে ফেললো৷ তখন কি আপনি বলবেন, তার মাঝে শ্রবণশক্তি ও জবানশক্তি না থাকায় অন্যান্য মানুষের তুলনায় তার হত্যাকারীকে তুলনামূলক কিছুটা কম শাস্তি দেওয়া হোক? নাকি হত্যাকারীকে এই বলে আপনি দ্বিগুণ শাস্তি কামনা করবেন, সে একটা নিষ্পাপ অক্ষম ব্যক্তিকে হত্যা করলো?
আসলে জগতের পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাই তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য ভালো করে জানেন৷ আল্লাহ তাঅালা অন্যান্য হালাল প্রাণীগুলোকে মানুষের খাদ্য হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন৷ তাছাড়া যারা উদ্ভিদ ও শাক- সব্জি খাওয়ার কথা বলে বেড়ায়, তারাই আবার শকুরের গোশ্ত খেতে দ্বিধাবোধ করে না৷
আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিগত নেজামই এটা, প্রাণীর জন্মহার মানুষের তুলনায় বেশি৷ প্রাণীর এ সংখ্যা কন্ট্রোল না করলে শুধু মানব আবাদিই নয়; স্বয়ং অন্যান্য প্রাণীদের জীবনের জন্যও বিরাট ঝুঁকির সৃষ্টি হবে৷ রোড- গাডের ট্রাফিং নেজাম এদের কারণে বিঘ্নিত হবে৷ ক্ষেত- খামার শেষ করে ফেলবে৷
সংখ্যার আধিক্যের কারণে এরা খাদ্য না পেলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে৷ এদের দেখভালের মতো মানুষের কমতি পড়বে৷ তাই তো আজকাল আমাদের হিন্দুস্তানের প্রতিটি রাস্তায় রাস্তায় এসব নিরীহ প্রাণীদের কষ্ট ও যাতনার কবলে পড়ে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেখা যায়৷ পর্যাপ্ত খাদ্য না পাওয়ার কারণে ময়লা, ডাস্টবিনের পলিথিন পর্যন্ত খেয়ে ফেলে৷ এদের জন্য বিভিন্ন গোশালা বানানো হলেও, এদের ভক্ষণ না করলে এভাবেই মৃত্যুসংখ্যা বাড়তে থাকবে৷ যেখানে সেখানে এদের মৃতদেহ পড়ে থাকবে৷ এতে পরিবেশেরও মারাত্মক রকমের ক্ষতি হবে৷
-এটি