নুরুদ্দীন তাসলিম।।
হিজাব পরে ক্লাসে বসার বৈধতার জন্য লড়াই করে যেতে হচ্ছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মুসলিম শিক্ষার্থীদের। কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশটিতে হিজাবের অধিকার পেতে কর্ণাটক হাইকোর্টে মামলা করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এই মামলার রায় নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কর্নাটকে।
এর মধ্যেই আজ মঙ্গলবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে হিজাব পরিহিতা মুসলিম তরুণীকে ভয় দেখানোর জন্য জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা, কিন্তু এসব তোয়াক্কা না করে গেরুয়া বাহিনীর নাকের ডগায় আল্লাহু আকবার তাকবীর ধ্বনি তোলেন এই মুসলিম তরুণী। দৃঢ়চিত্তে হেটে যান নিজের ক্লাস রুমে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন হিজাবের পক্ষে তাকবীর ধ্বনি তোলে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়া মুসলিম তরুণী। তার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অনলাইন একটিভিস্ট ও ইসলামী চিন্তাবিদদের অনেকেই।
জনপ্রিয় আলোচক ও গবেষক আলেম শায়খ আহমদুল্লাহ নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, `কর্নাটকে ইসলামের ফরজ বিধান হিজাবের কারণে নিপীড়নের শিকার বোনের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি৷'
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সমাজসেবক সাইমুম সাদী লিখেছেন, একটি শ্লোগানে কেপে উঠলো পুরো বিশ্ব।
ইসলামী রাজনীতিবিদ মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া লিখেছেন, যে ক্যাম্পাসে গেরুয়া উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা 'জয়শ্রীরাম' স্লোগান দিয়ে মুসলিম নারীকে অধিকার বঞ্চিত করতে চায়, সেখানে হেজাবধারী এক সাহসী নারী আকাশ-পাতাল প্রকম্পিত করে আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে ঈমানী শক্তি প্রদর্শন করেছেন। তার ঈমানদীপ্ত বীরোচিত এ ঘটনা মুসলমানদের মাঝে নব চেতনা সৃষ্টি করবে। একজন মুসলিম বোন বোরকা পরিধান করলে তাকে কেন ঘেরাও করা হবে? তার চতুর্দিকে 'জয়শ্রীরাম' স্লোগান কেন দেয়া হবে? এটা কোন ধরনের সভ্যতা? হেজাব পরা নারীর অধিকার। এ অধিকার রক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই মানবতার দাবি। বোরকা মুসলিম নারীদের ইসলামি ড্রেসকোড। কোন নাগরিকের ধর্মীয় ড্রেসকোড ব্যবহারের অধিকারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে নিঃসন্দেহে তার মানবাধিকার হরণ করা হয়। মানবাধিকার হরণকারীরা মানবসভ্যতা ধ্বংসের অপচেষ্টায় লিপ্ত। বিশ্বসম্রদায়কে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড