সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

কেউ পালায়, কেউ রুখে দাঁড়ায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

অঘোর মন্ডল: নিঃসঙ্গতা। একাকিত্বতা। এসব এক সময় জন্ম দিতে পারে হতাশা। অনেকে সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। কেউ ডুবে মরেন। কেউ হতাশাকে পেছনে ফেলে দৌড়াতে চান। আশায় বুক বেঁধে বাঁচতে চান। কেউ মুক্তি খোঁজেন জীবনের ওপারে!

সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে এক ভদ্রলোকের আত্মহত্যা দারুণ তোলপাড় ফেলেছে নেট দুনিয়ায়! গণমাধ্যমেও যার ঢেউ খানিকটা আঁচড়ে পড়েছে। কেন এই আত্মহত্যা? এর ব্যাখ্যা খুঁজতে গণমাধ্যমকর্মীরা ছুটেছেন মনোবিদদের কাছে। নানামাত্রিক ব্যাখ্যা মিলেছে।

কেউ বলেছেন, বহু রকম হতাশা থেকেই এই আত্মহত্যা! কিন্তু সেই আত্মহত্যার প্রচার-প্রচারণা যেভাবে হলো; তাতে বলতেই হচ্ছে গোটা সমাজই রোগগ্রস্ত! এবং সেটাও মানসিক রোগ। ফেসবুক লাইভে এসে যে লোকটা আত্মহত্যা করেছেন, তিনি রোগী। সন্দেহাতীতভাবে রোগী।

তিনি রোগাগ্রস্ত হওয়ার কারণ পারিবারিক, ব্যবসায়িক যাই হোক, সেই রোগমুক্তির প্রেসক্রিপশনটা তিনি নিজের হাতেই লিখলেন। খরচ করলেন নিজের পিস্তলের একটা বুলেট। কিন্তু সেই মৃত্যু বা আত্মহত্যার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে যারা লাখ লাখ ভিউ আর ব্যবসার দিকে ঝুঁকলেন, তারা কি মানসিকভাবে সুস্থ? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই কর্মকাণ্ড কি আমাদের সমাজের সুস্থতার পরিচয় বহন করছে। যদি করত তা হলে কী আদালত থেকে নির্দেশ দিতে হতো; ডিজিটাল প্ল্যাটফরম থেকে ওই দৃশ্য সরিয়ে ফেলার।

ব্যবসায় লোকসান হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে ছেড়ে দূরে চলে গেছেন বা যাচ্ছেন। পারিপার্শ্বিকতা তার ভেতর হতাশার জন্ম দিতে পারে। আর সেই লোকটা জীবনের লড়াই থেকে পালাতে চাইছেন। যে লোকটা ভয়ে লড়াই থেকে পালাচ্ছেন, সেটা দেখার জন্য আমরা কেন ফেসবুকে হুমড়ি খেয়ে পড়লাম! আমাদের মস্তিষ্কের সুস্থতাও প্রশ্নবিদ্ধ।

জীবদ্দশায় সবাই অর্থ-নাম-খ্যাতি-পরিচিতি-সুখ-শান্তি সবকিছু পেয়েও ধরে রাখতে পারেন না। কিংবা এসব সামলাতে তার সমস্যা হয়। সে কারণেই জীবন থেকে পালায়। অনেক সফল মানুষ মনপ্রাণ দিয়ে সাফল্যের পেছনে ছুটেছেন। সফল হয়েছেন। সেটা উপভোগ করেছেন। আবার অনেকে জান বাজি রেখে সাফল্যের পেছনে ছুটেছেন।

হয়তো সাফল্য পাননি। কিন্তু জীবনকে বিসর্জন দেননি। রোজ রোজ শুধু সাফল্যের জন্য জীবনকে বাজি রেখে ছুটলে ভেতর থেকে পুড়ে চাই হয়ে যেতে হবে। ভদ্রলোক যে কোনো কারণেই হোক ভেতরে ভেতরে পুড়ে গিয়েছিলেন। পিস্তলের গুলির শব্দে ভেতরের সেই আগুনটাকে নিভিয়ে দিয়ে গেলেন তিনি।

জীবনযুদ্ধে হতাশা আছে। আক্ষেপ আছে। সেগুলো আড়াল করার অসাধারণ ক্ষমতাও তাদের আছে। ক