সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা।।
গোয়াইনঘাট সিলেট>
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলার হাওর এলাকার আধা-পাকা ও কাঁচা বোরো ফসল পানিতে ডুবে । হুমকির মুখে পড়ছে বেশ কয়েকটি ফসল রক্ষা বাঁধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে কৃষকদের বিভিন্ন বিলের মাটি ভরাট করে বাঁধ রক্ষায় ডাকা হচ্ছে। এ অবস্থায় ফসল রক্ষা করতে ও বাঁধ বাঁচাতে কোদাল হাতে টিন-কাঠ বাঁশ নিয়ে ছুটছেন কৃষকরা।
গত রাত থেকে এ পর্যন্ত উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে উপজেলার পূর্ব জাফলং পশ্চিম জাফলং রুস্তমপুর তোয়াকুল ও ডৌবাড়ী।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দশ দিনের ব্যবধানে সিলেটের গোয়াইনঘাটে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে কৃষকের সহশ্রাধিক হেক্টর জমির বোরো ধান। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে ফসলি জমি নিমজ্জিত হওয়ার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাকির হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গোয়াইনঘাটে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। তলিয়ে গেছে কৃষকের রূপায়িত কয়েকশ' হেক্টর জমির বোরো ধান। আবার কোথাও রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের আসামপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রবল বন্যার স্রোতে ভেঙ্গে গেছে রাস্তা। নিম্নাঞ্চলের অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি ও ডুবেছে। যাতায়াতে বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি।
পরগানা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন,উনাইর হাওর রাস্তায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে রাস্তা নির্মাণ কাজে যে বাইপাস রাস্তা করা হয়েছিল তা পানিতে ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। অকাল বন্যার দকল সইতে উপজেলায় বসবাসকারী মানুষের অনেক ভোগান্তি ও বেগ পেতে হবে।
কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, ফসল ঘরে তোলার মাত্র দিন দশেক আগে আমার ফসল তলিয়ে যাবে এমন চিন্তাও করতে পারিনি। রাতে যখন খবর পাই পানি বাড়ছে ভোর সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাথে দশ বছরের কিশোর তাহমিদসহ আধাপাকা ধান কাটা শুরু করেছি। জীবিকার একমাত্র উৎস এ ফসল চোখের সামনে এখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে দেখে ধৈর্য ধরতে পারছি না।আমাদের উপার্জনের একমাত্র উপায় এ ফসল। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এবার আবাদ করেছি। ফসল তোলার মাত্র কযেকদিন সময় তাও চলে যাচ্ছে পানির নিচে, কথাগুলো কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে ভেঙে পড়েন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ জানান, ডুবে যাওয়া ধানের জমি ও এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে কাজ করছি। পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারবো। তবে তিনি জানান উপজেলার পূর্ব জাফলং, পশ্চিম জাফলং, রুস্তমপুর ও ডৌবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বোরো ফসলের জমি বর্তমানে পানির নিচে আছে।
এনটি