বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রীতির বন্ধনে ৪৫ বছর, নড়াইলে গা ঘেঁষে অবস্থান মসজিদ-মন্দিরের কুমিল্লায় বৃত্তি প্রদান ও আল্লামা নুরুল হক (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে মাদানী পাঠাগারের উদ্যোগে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি আইএবি ঢাকা দক্ষিণের মহিলা ইউনিটের ২৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা জেদ্দা বিমানবন্দরের নর্থ টার্মিনালের ফ্লাইট স্থানান্তর, হজ-ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা সেবার আলো মাওলানা সাজ্জাদ নোমানির নেতৃত্বে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নেতাদের বৈঠক দেশের ইসলামী স্কুলগুলো বড় আশীর্বাদ: মাসউদুল কাদির গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ: গাজী আতাউর রহমান

ব্রেইল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ১৩ যুবক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: অন্ধত্বকে পরাজিত করে প্রচণ্ড ইচ্ছেশক্তির ডানায় ভর করে ব্রেইল পদ্ধতিতে কুরআনে হাফেজ হয়েছেন রাজধানীর কামরাঙ্গী চরের ১৩ যুবক। কাগজের মধ্যে হাতের আঙুল নেড়েই হরফ চিনে রপ্ত করে হাফেজ হয়েছেন তারা।

দৃষ্টি শক্তিহীন এসব হাফেজদের দুনিয়ার একটি রং কালো। কালোর সেই অন্ধকার পেছনে ফেলে পবিত্র কুরআনের আলোয় আলোকিত হয়েছেন ১৩ জন হাফেজ। তাদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে কামরাঙ্গীরচরের তালিমুল কুরআন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নূরানি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা।

যেখানে চোখে দেখেও তেলাওয়াত করতে পারে না মানুষ, সেখানে একদল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার করে আঙুলের সাহায্যে শিখেছেন কুরআন তিলাওয়াত।

চোখ নেই তবুও কুরআন শিখতে পারায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানান শিক্ষার্থীরা। একজন বলেন, আমি জন্মসূত্রে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ওস্তাদের কাছ থেকে শিখে আমি হাতের ইশারায় কুরআন ব্রেইল পড়ছি।

আরেকজন বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে কুরআন শরীফ পড়ার ও হেফজ করার তৌফিক দান করেছেন। সে জন্য অনেক আনন্দিত। আল্লাহ তায়ালার কাছে অনেক শুকরিয়া।

কামরাঙ্গীরচরের এই প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। তিনি নিজেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এমনকি মাদরাসার সভাপতিও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

শিক্ষক বলেন, আমরা যে পড়তে পারি, এটা আল্লাহ তায়ালার বড় একটা নেয়ামত। আজকে যদি আল্লাহ জবান না দিত, পড়তে না পারতাম; তাহলে এই নেয়ামতটা আমরা পেতাম না। সে জন্য আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।

তালিমুল কুরআন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নূরানি হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা সভাপতি মীর আশরাফ হোসেন বলেন, ব্রেইল হচ্ছে দৃষ্টিহীনদের একটি বিশেষ পদ্ধতি। ফ্রান্সের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লুই ব্রেইল এটার আবিষ্কারক।

ছয়টি ফোটার মাধ্যমে সবগুলো অক্ষর সৃষ্টি হয়। একেকটি অক্ষরের জন্য সুনির্দিষ্ট নম্বর আছে, সেগুলো আমরা মুখস্ত করে নেই। এভাবেই আমরা পড়াশোনা করি।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে কুরআনের শিক্ষা সহজ না হলেও একাগ্রতার কারণে সম্ভব হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তাদের শিক্ষক।

শিক্ষক বলেন, প্রথমে তাদের নম্বর শেখানো হয়, ডট শেখানো হয়। এরপর সিরিয়াল শেখান হয়। এরপর তাকে ডান-বাম চেনানো হয়। এরপর সে কুরআন শরীফ পড়তে পারে।

কুরআনের এ হাফেজদের সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। একজন বলেন, তাদের সমস্ত শরীরে একটি বশয় অনুপস্থিত সেটা হচ্ছে দৃষ্টিশক্তি নেই।

শিক্ষার্থী হিসেবে এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, পাশাপাশি ওস্তাদরা অনেক পরিশ্রম করেছে। এই প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা করার জন্য এবং আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার জন্য এখানে অনেক আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

মাদরাসাটাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা এবং তাদের এই কার্যক্রমকে সচল রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০১৬ সাল থেকে মাদরাসাটিতে এই পদ্ধতিতে কুরআন শিখে আসছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ