সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী

আলেমদের মতভেদে জনসাধারণের করণীয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মাদ আবু আখতার।।

সমাজের সব মানুষের মন-মানসিকতা সমান নয়। একই বিষয়কে বিভিন্নজন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে। তাই মতভেদ হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। জীবনের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে মতভেদ নেই। ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি জীবনের অন্যান্য সব ক্ষেত্রের ন্যায় ধর্মীয় ক্ষেত্রেও মতভেদ বিদ্যমান।

কিন্তু আমাদের সমাজের লোকেরা অন্য সব ক্ষেত্রে মতভেদকে স্বাভাবিক মনে করলেও ধর্মীয় ক্ষেত্রে আলেমদের মতভেদকে বাঁকা চোখে দেখে থাকে। আলেমদের মধ্যে মতভেদ দেখলেই তাদের সম্পর্কে অত্যন্ত বাজে মন্তব্য করা হয়।

আলেমদের মতভেদকে মুসলমানদের দুরবস্থার জন্য দায়ী মনে করা হয়। এক আলেমের অনুসারীরা বিপরীত পক্ষের আলেমদের ব্যাপারে জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করে কথা বলে।

আলেমগণের পারস্পরিক মতভেদ দেখে সাধারণ মুসলমানদের অনেকে তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে নিজেদের কুপ্রবৃত্তির চাহিদামাফিক চলতে থাকে৷ আবার অনেকে এসব মতভেদ দেখে আলেমগণের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে৷ এমনকি অনেকে তো মতভেদের কারণে গোটা আলেমসমাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলে এবং ইসলাম সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে। আমাদের সমাজের বিরাট সংখ্যক মুসলমান শুধুমাত্র এ কারণেই আলেমদের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে থাকে। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।

মতভেদের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে আলেমদের মতভেদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা বিরাজ করছে। আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষই মনে করে মতভেদ মানেই খারাপ।

অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে ইজতেহাদী মতভেদ নিন্দনীয় নয়। আসলে ইসলামের মৌলিক যেসব বিষয় কুরআন সুন্নাহতে সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত হয়েছে এসব বিষয়ে হকপন্থী আলেমগণের মধ্যে কোন মতভেদ নেই৷ এসব বিষয়ে তারা সকলে একমত৷ এক্ষেত্রে আলেমদের মতভেদের কোন সুযোগও নেই।

এসব বিষয়ে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে সে আলেম হিসেবে গণ্য হওয়া তো দূরের কথা মুসলমান হিসেবেও গণ্য হতে পারে না৷ কোরআন সুন্নাহর সুস্পষ্ট মৌলিক কোন বিধানের বিপরীত মত কেউ পোষণ করলে সে ইসলামের গন্ডী থেকে বের হয়ে যাবে। যেমন ইসলামের পাঁচটি মুলভিত্তি ঈমান, সালাত, যাকাত, সাওম, হজ। এসব বিষয় কোরআন সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলীলের আলোকে প্রমাণিত। তাই এসব ফরজ হওয়ার ব্যাপারে কোন আলেমের দ্বিমত নেই।

কেউ যদি এর কোন একটিকেও অস্বীকার করে তাহলে সে ইসলামের গণ্ডি হতে বের হয়ে কাফির হিসেবà§