সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী

রক্তদানে হোক আত্মার বন্ধন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।। আব্দুর রউফ আশরাফ ।।

পৃথিবীতে অদ্বিতীয় কোন দান থাকে তাহলে তা হল রক্তদান। নিঃস্বার্থে রক্তদান এটি পৃথিবীর সকল দেশের সর্বশ্রেণীর মানুষেরা দিয়ে আসছেন। উন্নত দেশে বেশিরভাগ রক্তদাতাই হলেন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান করেন। দরিদ্র দেশগুলোতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা অনেক কম, বেশিরভাগ রক্তদাতাই কেবল তাদের পরিচিতজনদের প্রয়োজনে রক্তদান করেন।

বেশির ভাগ রক্তদাতাই সমাজসেবামূলক কর্মসূচি মনে করে রক্তদান করেন, তবে কিছু মানুষ পেশাদার রক্তদাতা, অর্থাৎ তারা অর্থ বা কোন ভাতার বিনিময়ে রক্তদান করে থাকেন। আবার রক্তদাতা তার ভবিষ্যত প্রয়োজনে রক্ত পেতে পারেন। আবার কিছু সংখ্যাক আছেন যারা এ ভেবে রক্তদান করেন, যে আমার আত্মীয়স্বাজন বিপদেআপদে রক্তা পাবো। এ মনে করে অনেক রক্তদাতা বিভিন্ন ব্লাডা গ্রুপে সংযুক্ত হয়ে রক্তদান করেন।

ধর্মীয় দৃষ্টিতে রক্তদান অত্যন্ত পুণ্য বা সওয়াবের কাজ। পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদার ৩২নং আয়াতে উল্লেখিত রয়েছে, ‘.আর যখন কেউ কোনো মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ বলা হয়েছে- ‘নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘজীবন ও অমরত্ব।’ আসলে সব ধর্মেই রক্তদানকে উৎসাহিত করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে রক্তদানের মাধ্যমে প্রাণ বাঁচানো একটি মহৎ কাজ এবং বড় ইবাদত।

রক্ত কখন দিবো এবং কেন ?

যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির জীবননাশের আশঙ্কা দেখা দেয় এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে তার শরীরে অন্যের রক্ত দেওয়া ছাড়া বাঁচানোর কোনো পন্থা থাকে না, তখন রক্ত দিতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং এ ক্ষেত্রে ইসলাম রক্তদানে উৎসাহ দিয়েছে।

রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা নেই, কিন্তু রক্ত দেওয়া ছাড়া তার জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাবে অথবা রোগমুক্তি বিলম্বিত হয়; এমন অবস্থায় রক্ত দেওয়া আবশ্যিক জায়েজ।

মানুষের জীবন ও দেহের সুরক্ষায় রক্ত অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কিন্তু মানুষে মানুষে অনেক তফাৎ! কেউ রক্ত দেয়; আবার কেউ রক্ত নেয়। কেউ কেউ তো এমনও আছে, যারা রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে নিষ্ঠুর জিঘাংসায় লিপ্ত হয়। খুনখারাবি মারামারি হানাহানি করে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টেটাবিব্ধ হয়ে রক্তের স্নাত ঘটাই। প্রেম-বিরহে হাত কেটে অযথা রক্ত ক্ষয় করি। ছলনা ভরা ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে রক্ত ঝড়ানোর ঘটনা বাড়ছে অহরহ।

খুন-পিয়াসী ‘খুনিয়া’ হয়ে ওঠে। মানবতার গায়ে এঁকে দেয় কলঙ্ক-চিহ্ন। কিন্তু এ রক্তই অনেকে  ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়à§