শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে এনসিপি ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার

প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা ফরিদ আহমাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: গওহরডাঙ্গা মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ফরিদ আহমাদ (রূপসার হুজুর) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন। ১৭ আগস্ট রাত ৮টায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ১৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় জানাজা শেষে গওহরডাঙ্গা মাদরাসা-মসজিদ সংলগ্ন মাকবারায়ে শামছিয়ায় তাকে দাফন করা হয়।

গওহরডাঙ্গা মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে নামাজে জানাজার ইমামতি করেন গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ২ মেয়ে, অসংখ্য ছাত্র, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মাওলানা ফরিদ আহমাদ ১৯৬০ সালে তেরখাদা থানার ইসামতি গ্রামের একটি সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে এসএসসি পাশ করেন। স্কুলে পড়াকালীন সময় তিনি মোজাহেদে আজম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী ছদর ছাহেব রহ. এর জীবনী পড়ে মাদরাসায় পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ হন। মাদরাসার প্রাথমিক শিক্ষা গোপালগঞ্জের ছোটফা মাদরাসায় শেষ করে গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় ভর্তি হন। গওহরডাঙ্গা মাদরাসা থেকে ১৯৮৩ সালে দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসায় গমন করেন এবং ১৯৮৬ সালে কৃতিত্বের সাথে দেওবন্দ মাদরাসা থেকে দাওরায় হাদিস সমাপ্ত করে মাওলানা সনদ লাভ করেন।

১৯৮৮ সালে তিনি গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় শিক্ষকতাকালীন সময় হাদিসের সর্বোচ্চ কিতাব বোখারী শরিফ, মুসলিম শরিফ সহ কওমি মাদরাসার সব গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের দরস প্রদান করেন।

মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের গওহরডাঙ্গা বিভাগীয় জিম্মাদার দায়িত্ব পারন করেন। তিনি ছদর ছাহেব রহ. এর কর্মসূচি এবং তার লিখিত কিতাব দেশ ব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অক্লান্ত মেহনত করতেন।

তার মৃত্যুতে খাদেমুল ইসলাম বাংলদেশের আমির ও গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম পীরে কামেল আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন গভীর শোক প্রকাশ করে তার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, মাওলানা ফরিদ আহমাদ ইসলামের প্রচার-প্রসারে একজন নিবেদিত মানুষ ছিলেন। হাদিসের দরসে তাঁর তাকরির সবাই কে মুগ্ধ করত। তিনি সব সময় মাদরাসার উন্নতি-অগ্রগতি এবং ছাত্রদের যোগ্য করে গড়ার জন্য চেষ্টা করতেন। মুফতি রুহুল আমিন বলেন, তাঁর মৃত্যুতে আমি একজন বিশ্বস্ত কর্মী ও সহযোদ্ধা হারালাম। তাঁর শূণ্যতা পূরণ হওয়ার নয়। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করেন।

তাঁর মৃত্যুতে আরো শোক প্রকাশ করছেন গওহরডাঙ্গা মাদরাসার শায়খুল হাদীস মুফতি আব্দুর রউফ (ঢাকার হুজুর), ছদর ছাহেব রহ. এর পৌত্র মুফতি উসামা আমীন, খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ঝিনাত আলী, গওহরডাঙ্গা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা শামছুল হক, গওহরডাঙ্গা মাদরাসার নাজেমে তালীমাত মুফতি নুরুল ইসলাম, সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুস সালাম, খাদেমুল ইসলাম ছাত্র শাখার সাবেক সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ তাসনীম, তানজিমুল মুদাররিসিন বাংলাদেশের মাওলানা আতাউর রহমান, খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা বিভাগীয় জিম্মাদার মাওলানা মানসুরূল হক, ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা আজিজুর রহমানসহ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ