মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী
ভাষান্তর: মাওলানা তাওহীদ আদনান কাসেমী নদভী
কুরআন ও হাদীসের মর্ম বাণী অনুযায়ী বুঝা যায়, শক্তিশালী মুমিন ও দৃঢ় ঈমানদারদের আল্লাহ পাক ভালোবাসেন। সুতরাং মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো, কুরআন ও হাদীসের এই মর্মবাণীতে আমাদের প্রতিচ্ছবি খোঁজা।
ভারতের কথাই বলা যাক। এখানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও বাস্তবিক বিচারে ধর্মের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুসলিমরা পিছিয়ে। কিন্তু কেনো?
সংখ্যালঘুরা যদি সমাজে সম্মানজনক অবস্থান গ্রহণ করতে চায়, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমান বা তাদের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সুতরাং মুসলিম যুবকরা সমষ্টিগতভাবে যতক্ষণ না সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের সমান বা তাদের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করবে, যতক্ষণ না তারা অন্যদের সমপর্যায়ে পৌঁছুতে পারবে, ততক্ষণ তাদের নিজ অংশের চেয়েও বেশি কাজ করে যেতে হবে। তাহলেই কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমপর্যায়ে পৌঁছা সম্ভব।
ভারতে যত সরকারি-বেসরকারি অনুসন্ধানী বিশ্লেষক কমিশন গঠন করা হয়েছে, সকলেই মুসলমানদের অবস্থা বিশ্লেষণে ঐকমত্য হয়েছে যে, মুসলমানদের পিছিয়ে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো, শিক্ষার অভাব।
শিক্ষার অভাব বলতে যে, মুসলিম শিশুদের মেধা নেই, বিষয়টা এমন নয়। বরং বিষয়টা হলো, মুসলিম শিশুরা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর শেষ করে আর আগায় না। মাধ্যমিক স্তরেও আসে না। অপূর্ণাঙ্গভাবেই ইতি টানে শিক্ষা জীবনের। আর যেহেতু তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে, ফলে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যায় জীবনের সকল কর্মক্ষেত্রেও।
শিক্ষাক্ষেত্রে অনাগ্রসরতার প্রধান কারণ হলো, শিক্ষাগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারা। বিপুল সংখ্যক মুসলিম শিশু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির মধ্যেই ঝরে পড়ে। অনেকেই ম্যাট্রিক পর্যন্তও পৌঁছে না। আবার যারাই ম্যাট্রিক শেষ করে, এর থেকে আর সামনে এগুয় না। প্রতিটি স্তরেই এই অবস্থা চলতে থাকে। এমনকি উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও তাদের আনুপাতিক হার ন্যূনতম হয়ে যায়।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে পুলিশ-প্রশাসন ইত্যাদিতে মুসলমানদের সংখ্যার হ্রাস এই কারণে নয় যে, তাদের সাফল্যের হার তুলনামূলক কম। বরং এই সংখ্যা হ্রাসের কারণ হলো, এ সমস্ত সেক্টরে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যাই কম। সুতরাং যাদের অংশগ্রহণ কম, তাদের সংখ্যাও কম হবে এটাই তো স্বাভাবিক। তবে এই শিক্ষা ও আনুষঙ্গিক পতন রোধ মুসলমানদের জন্য এখন একটি জাতীয় কর্তব্য।
আল্লাহ পাকের শ