কাউসার লাবীব: একজন আলিমের জন্য ইতিহাস জানা কতটুকু প্রয়োজন, জানতে হলে তা কোন ধরনের ইতিহাস হতে হবে? ইতিহাসের কিতাবাদীতে অনেক এমন ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় যা অসম্ভব কিংবা অবাস্তব মনে হয়। তাই এমন কিছু ইতিহাসের কিতাবের নাম জানতে চাই যেগুলোতে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস পাওয়া যাবে এবং সেসব কিতাবের হাওয়ালা দিয়ে ঘটনা বলা বা লেখা যাবে? ইতিহাসের কিতাবাদীতে যখন কোনো ঘটনা বর্ণনা করা হয়, দেখা যায়, অনেক ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়- অমুকে এ কাজ করেছেন, অমুকে প্রধান ছিলেন, তাদের সংখ্যা এত ছিল ইত্যাদি। এবং সন, তারিখ ও বারের নামও উল্লেখ করা হয়। এখন জানার বিষয় হলো, ইতিহাস কখন থেকে লেখা শুরু হয়?
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের পর যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সনদ তো সাহাবা-তাবেয়ীন পর্যন্ত পৌঁছে। আবার দেখা যায় পৃথিবীর শুরু থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানার মধ্যবর্তী সময়ের যেসব ইতিহাস লেখা হয় সেগুলোর সদনও সাহাবা-তাবেয়ীন পর্যন্ত পৌঁছে। প্রশ্ন হলো, তাঁরা যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন সেই সনদ কোথায়, সেই সনদ তো কোনো কিতাবেই পাওয়া যায় না, তাহলে ঐ সব ঘটনা বা ইতিহাস তাঁদের কাছে কীভাবে পৌঁছলো- আমরা এ সনদহীন বিষয় কীভাবে বর্ণনা করবো বা সঠিক মনে করবো?
উত্তর: তারীখ ও ইতিহাসশাস্ত্রের বিভাগ ও উপবিভাগ অনেক। ইসলামী ইতিহাস, বিশ্ব-ইতিহাস, দেশীয় ও আঞ্চলিক ইতিহাস,সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাস, জ্ঞান ও শাস্ত্রের ইতিহাস, জীবন-চরিত ইত্যাদি। প্রয়োজন ও গুরুত্বের বিচারে এসবের মাঝে তারতম্য রয়েছে।
শুধু ইসলামী ইতিহাসেরও রয়েছে অনেক শাখা-প্রশাখা। যেমন, সীরাত, মাগাযী, সালাফ তথা সাহাবা, তাবেয়ীন, আইম্মায়ে দ্বীন প্রমুখের জীবনী, দ্বীনের দায়ী ও মুজাহিদদের জীবনী, খেলাফাত ও সালতানাতের ইতিহাস, আসমাউর রিজাল বা রিজালশাস্ত্রীয় ইতিহাস, কাসাসুল কুরআন, কাসাসুল আম্বিয়া, তারীখু আরাদিল কুরআন, তারীখু আরাদিল হাদীস, তারীখু আরাদিত তারীখিল ইসলামী। ইসলামী ইতিহাসশাস্ত্রের এসব শাখা-প্রশাখার প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। এগুলোর প্রত্যেকটির নিজস্ব গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে।
দ্বীনী, ঈমানী, ফিকরী, আখলাকী এবং ইলমী বহুবিধ ফায়েদা ও প্রয়োজনীয়তা এগুলোর সাথে জড়িত। আর এ ছাড়া মানব জাতির দ্বীন ও দুনিয়ার বহুমুখী কল্যাণের উৎস হিসেবে পৃথিবীর সাধারণ