মুফতি তাকি উসমানি
বাস্তব কথা হল আমি বয়ান করার কোনো যোগ্যতাই রাখি না। বক্তা ও ওয়ায়েজদের মতো আমি কোনো বক্তব্য বা ওয়াজও করতে পারি না। তবে দ্বীনী কথাবার্তা কোনো বক্তৃতা, ওয়াজ বা বয়ানের মুখাপেক্ষী নয়। ইখলাসের সাথে সাধারণ কথাবার্তাও অনেক উপকারী হয়। কিন্তু (আল্লাহ না করুন) যদি ইখলাস না থাকে তাহলে লম্বা লম্বা ওয়াজও নিরর্থক হয়ে যায়।
এই মুহূর্তে যে কথাটা দিলে এসেছে সেটি হচ্ছে, আমরা যত কাজ করছি, আল্লাহ তাআলার ফযল ও করমে আমাদের দ্বারা যত ইলমী ও দ্বীনী কাজ হচ্ছে-চাই তা শিক্ষা-দীক্ষা হোক, লেখালেখি হোক, ফতোয়া বা ইমামতি, যাই হোক-এসবের সম্পর্ক সরাসরি দ্বীনের সাথে। এবং এটা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে অনেক বড় রহমত যে, তিনি আমাদেরকে এই মহান কাজের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
অন্যথায় আমরা অন্য যে কোনো ব্যস্ততায় আবদ্ধ হয়ে যেতে পারতাম। নিজের পেট চালানোর জন্য মানুষ কত উপায়ই না গ্রহণ করছে। আমরাও হয়তো কোনো একটা বেছে নিতাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার অশেষ রহমতে আমাদেরকে কোনো না কোনো এমন কাজের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন যার সম্পর্ক সরাসরি দ্বীনের সাথে। এর শোকর আদায় করে আমরা শেষ করতে পারব না। কেননা এটা একমাত্র আল্লাহ তাআলার তাওফীক ও দয়া। তিনি যাকে ইচ্ছা দয়া করে তার দ্বীনের কাজে লাগিয়ে দেন।
অনেক সময় বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং এমন উপায়-উপকরণ সামনে চলে আসে যে, মানুষ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় এ জাতীয় দ্বীনী কাজের সাথে লেগে থাকে। আমি আমার নিজের অবস্থাই বর্ণনা করি। ছোটকালে আমার কবিতা বা শে’র-এর প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। আমার বয়স যখন ৪/৫ বছর তখন আমি যেকোনো বিষয়ে কবিতা বলতে পারতাম। এমনকি আমাদের বোনেরা, যারা কখনো স্কুলের ধারেকাছেও যায়নি-তারাও কবিতা বলতে পারত। আমার মামা খুব ভালো কবি ছিলেন। ওই বয়সে যখন কোনো কবিতা শুনতাম তখন তা নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম এবং মুখে মুখে আবৃত্তি করতাম। একটু বড় হওয়ার পর বড় বড় কবিদের বই পড়তে আরম্ভ করলাম এবং নিজেই সুন্দর সুন্দর কবিতা বলতে লাগলাম। ১২ বছর বয়সে গজল বলা আরম্ভ করলাম। এভাবে সাহিত্য-কবিতা ইত্যাদির প্রতি ওই বয়সে একটা ঝোঁক তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
এর কারণ ছিল, আমি যখন দারুল উলূমে পড়ি তখন যে শিক্ষকের কাছে আমরা নাহবেমির থেকে শরহে জামী পর্যন্ত পড়েছি মাওলানা সাহবান মাহমুদ ছাহেব, তিনি খুà¦