সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী

মুসলিম ঐতিহ্যের রাজসাক্ষী ভারতের মালিক ইবনে দিনার মসজিদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: মহানবী (সা.)-এর সময়কাল থেকে মুসলিম পর্যটক ও বণিকরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ মিশন নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছিলেন।

কেউ বের হয়েছিলেন শুধুই দ্বিন প্রচারের মহান ব্রত নিয়ে; আবার কেউ নিজেদের ব্যবসা বা রাষ্ট্রীয় কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে সফর করেছেন দূর-দূরান্তে। এসব মনীষীর একজন ছিলেন রাসুল (সা.)-এর সাহাবিদের বিশ্বস্ত সঙ্গী বিখ্যাত তাবেঈন মালেক ইবনে দিনার। তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের ফকিহ ও সুফি সাধক।

মালেক ইবনে দিনার (রহ.) ইরাকের কুফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দুনিয়াবিমুখতা ও আল্লাহভীরুতা তাঁকে দুনিয়াজুড়ে পরিচিত করেছিল। তিনি ভারতবর্ষে এসেছিলেন মানুষকে ইসলামের সুমহান ছায়াতলে আহ্বান করার জন্য। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ভারতের কেরালা রাজ্যের কাসারকাদ জেলায় মুসলিমদের সালাত আদায় ও নানাবিধ দ্বিনি ইলম শিক্ষা দান করার জন্য একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেটিই আজকের দিনে সুপরিচিত ‘মালেক ইবনে দিনার মসজিদ’।

এটি গোট ভারতবর্ষের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর অন্যতম। বর্তমানে এটি ভারতের অন্যতম ও কেরালা রাজ্যের সবচেয়ে বড় ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত।

মসজিদের বয়স এবং মালেক বিন দিনারের মতো একজন মহান ব্যক্তির হাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ও তারই নামানুসারে এটির নাম দেওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক পুণ্যভূমি এবং মুসলিমদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে উঠেছে। যার আবেগময় চেতনা প্রজন্মান্তরে মুসলিম সমাজে প্রবাহিত হয়ে আসছে।

প্রাচীন এই মসজিদটির ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কারণে আজকের অবয়বে আসার পরম্পরায় বেশ কয়েকবার সংস্কার ও উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদটির তিন তলা দুটি ভবন আছে। ভবনগুলো আধুনিক মুসলিম স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন কারুশৈলী দ্বারা সজ্জিত। দুটি ভবনই স্থাপত্যশৈলীর ভিন্ন ভিন্ন অবয়বে নির্মিত।

প্রশস্ত জানালা, কারুকার্যময় বৃহদাকারের দরজা, সুউচ্চ মিনার আর দুই ভবনের দুটি গম্বুজ মসজিদের সৌন্দর্য বহু গুণ বৃদ্ধি করেছে। একসঙ্গে কয়েক হাজার মুসল্লি এখানে সালাত আদায় করতে পারেন। বাহারি রং আর আরব্য চিত্রশৈলীর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য মুসলিমদের পাশাপাশি অমুসলিম পর্যটকদেরও টেনে নেয় কেরালার এই পুণ্যভূমিতে।

বর্তমানে কেরালা মুসলিম সম্প্রদায় এই মসজিদটিকে ঘিরেই গড়ে তুলেছেন সেখানে একটি মাদরাসা, একটি এতিমখানা ও কবরস্থান, যা গোটা কেরালার মুসলিমদের একটি ভালোবাসার স্থান।