|| হাফেজ ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান ||
আলহামদুলিল্লাহ। কুরআনুল কারীমের হিফজ ও তিলাওয়াতে দেশের ছেলেরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। হিফজ মাদ্রাসাসমূহের চেষ্টা সাধনা ও টিভি চ্যানেল ভিত্তিক বার্ষিক প্রতিযোগিতাগুলো বাংলাদেশে দক্ষ হাফেজ তৈরির পিছনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের অবদান সব চেয়ে বেশি বলে মনে করি। কারণ, সঠিক বিচার ও বাছাইয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত হাফেজ কারী নির্বাচিত করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথা সময়ে প্রেরণ এবং তাদেরকে যাবতীয় দাপ্তরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে এ বিভাগ দেশের মাদ্রাসা ও আলেম সমাজের নিকট বিপুল আস্থা অর্জন করেছে। যে কারণে গ্রাম গ্রামান্তরের শিশুরাও বিশ্বাস করে যে, ভালো হাফেজ হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিদেশ পাঠাবে। ছোট ছোট শিশু কিশোর ও তাদের দরিদ্র উসতাযগণ মক্কা মোকাররমায় পবিত্র উমরা ও হজ করার স্বপ্ন লালন করে শৈশব থেকেই। দুনিয়ার সম্মান ও আখেরাতে মহান আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনই মূল লক্ষ্য হয় অধিকাংশ হাফেজ আলেমের।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় প্রতিযোগিতার খবর, আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআনে হিমালয় সম সাফল্য, এনটিভির পিএইচপি কুরআনের আলো, আরটিভির আলোকিত কুরআন, বাংলাভিশনে পবিত্র কুরআনের আলো, নিউজ ২৪ এর কুরআনের নূর, কোনটিতে সেরাদের সেরা, ক্ষুদে হাফেজ ইত্যাদি প্রোগ্রাম দেখে এখন সাধারণ শিক্ষিত মানুষও সন্তানদের হাফেজে কুরআন বানানোর দিকে ঝুঁকছেন। আলহামদুলিল্লাহ, জেনারেল শিক্ষিত পরিবারে এখন অনেক হাফেজ কারী আলেম তৈরি হচ্ছে। ফলে অনারব দেশ হওয়া সত্যেও এখন হাফেজের সংখ্যা বিচারে বাংলাদেশ পৃথিবীর দশ এগার ক্রমিকে অবস্থান করছে। এক থেকে পাঁচের মধ্যে লিবিয়া, মরক্কো, আলজিরিয়া, মিসর, সৌদি আরব বা ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া রয়েছে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনুপাতে হাফেজের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবু পনের বিশ লাখ হাফেজ এদেশে আছেন। আলেম আছেন ত্রিশ চল্লিশ লাখের মত। প্রতিযোগিতার ব্যাপারে দেশের বড় আলেমগণ নিরুৎসাহিত করেন। ইখলাস ও লিল্লাহিয়াত বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বড় মাদ্রাসাসমূহ হাফেজ হওয়ার পরই ভালো আলেম হওয়ার জন্য ছেলেদের চাপের মধ্যে রাখার পক্ষপাতী। তাদের দাবিও যুক্তিসঙ্গত এবং বাস্তব বলে মনে করি। কারণ বেশিরভাগ সেরা হাফেজ ও কারী ভালো আলেম ও আমানতদার হয়ে দীনী খেদমতে নিয়োজিত হতে পারেন না। অর্থ ও খ্যাতি কি অনর্থের মূল? না। সবাà¦