|| মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ||
ময়মনসিংহের তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রবীণ ও পুরনো মুরব্বি প্রফেসর হযরত হাফিজ উদ্দিন সাহেব গতকাল মাগরিবের পরপর নেক্সাস হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) আজ (১৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় আকুয়া বাইপাস মোড়- তাবলিগের মারকাজে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানকার মাকবারায় তাঁকে দাফন করা হয়।
প্রফেসর হযরত হাফিজ উদ্দিন সাহেব-কে ছোটকাল থেকে চাচা ডাকতাম। তাবলিগের নিসবতে আব্বা আর তিনি ভাই ভাই সম্পর্কে ছিলেন। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স সম্ভবত ৮০ কিংবা তার চেয়ে কিছু বেশি হবে। সেই আশির দশকের গোড়া থেকে হযরতের সামনে যাতায়াত করার সুযোগ ঘটেছে। ময়মনসিংহের তাবলিগের প্রফেসর সাইদুর রহমান সাহেব, সাখাওয়াত সাহেব, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম সাহেব, মরহুম প্রফেসর আবু সাঈদ সাহেব এবং পরবর্তী সময়ে প্রফেসর মামুন সাহেব- এর নাম ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আব্বার পরিচয় ও নিসবতে আমরা পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তবে ইনাদের মধ্যে সবার চেয়ে বেশি যোগাযোগ, পরিচিতি ও উপস্থিতি ছিল হযরত হাফিজ উদ্দিন চাচার সামনে।
বহুদিন পর্যন্ত মারকাজ মসজিদ ছিল শহরের ভেতরে কাচারি মসজিদ। আমার স্মৃতি আসলে সেই মসজিদকে কেন্দ্র করেই বেশি। নতুন মারর্কাজ মসজিদে চাচার সঙ্গে দু-তিনবার দেখা হয়েছে সম্ভবত।
কম কথা-বলা ফর্সা টানা-চোখ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত অবয়বের অধিকারী ছিলেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। তাবলীগের কাজের কারণে একসময় নিজেই শিক্ষকতার চাকুরি ছেড়েও দিয়েছিলেন। সম্ভবত বেশি বয়সে নিজ চেষ্টায় হেফজুল কুরআন সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ছিল মুন্সীগঞ্জে। তবে সম্ভবত কর্মজীবন শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়ে জীবনের বেশিরভাগ সময়টা কাটিয়ে দিয়েছেন ময়মনসিংহে। এবং ময়মনসিংহের মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
প্রফেসর হাফিজ উদ্দিন চাচার আব্বাকেও আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। আমরা ছোট অবস্থায় তিনি (হাফিজ উদ্দিন চাচার আব্বা) ময়মনসিংহে কিছুদিন অবস্থানও করেছেন। ওই সময়েও যথেষ্ট শক্ত সমর্থ ছিলেন।
তাঁর বড় ছেলে মামুন ও আমরা একসঙ্গে নূরানী পড়েছি চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুমে। মাসুম, মারুফ বয়সে আমাদের ছোট। ছোটকালে তাদের নওমহলের বাসায় বেশ কয়েকবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। চাচিও আমাদেরকে খুব স্নেহ করতেন। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় চাচি সম্ভবত ১০-১২ বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন।
প্রফেসর হাফিজ উদ্দিন চাচা-কে আপাদমস্তক দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে নিমজ্জিত আল্লাহওয়ালা একজন মানুষ বলা যেতে পারে। এ কাজের বাইরে অন্য কোনো অবস্থায় তাঁকে দেখার বেশি একটা সুযোগ আমার হয়নি। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই নিবেদিত বান্দাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।
জেডএম/
