শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ।। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৫ জিলহজ ১৪৪৭


চামড়া কালেকশন বন্ধের ডাক ও একটি নিবেদন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মুঈনুল ইসলাম

আমার যতটুকু মনে পড়ে, আমি পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক (রহ.) এর মুখ থেকে সরাসরি শুনেছি যে, লালবাগ মাদরাসার বিখ্যাত মুফতি, হজরত মাওলানা মুফতী আব্দুল মুঈয খান (রহ.) প্রথম এই চামড়া কালেকশনের ধারণাটি পেশ করেন বাংলাদেশে। প্রথম বছর ১২টি চামড়া কালেকশন হলে তাঁকে সংবাদ দেয়ার পর তিনি লাফ দিয়ে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যান।

কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনায় চামড়া কালেকশন এর চলমান পদ্ধতি আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় একটি মর্যাদাবান ধর্মীয় আবহে রূপ নিয়েছে ইতিমধ্যে। আমরা শুধুমাত্র মাদরাসার অর্থনৈতিক স্বার্থ-রক্ষার জন্য ঈদের দিনটি কুরবান করি, বিষয়টি তা নয় মোটেই। আমরা এই খেদমতটা স্বেচ্ছায় কি অনিচ্ছায়, জেনে কি না জেনে, যেভাবেই হোক না কেন, তা আনজাম দিই সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে।

দেশের অসংখ্য মুসলমানের কুরবানিটা যেন সহিহ তরিকায় সম্পন্ন হয়,অসংখ্য পশুর চামড়া যত্রতত্র পড়ে থেকে পরিবেশ দূষণ না ঘটাতে পারে, এ ধরনের অসংখ্য লক্ষ্য উদ্দেশ্য সামনে রেখে এই কাজটি চলমান সমাজে ধর্মীয় মুরব্বিগণ চালু রেখেছেন। হ্যাঁ, এসবের সাথে সাথে লাখ লাখ ইয়াতিম গরিব তালিবে ইলমের দীন শেখার জন্যও এই পদ্ধতিটি এক সময় সহায়ক ভূমিকা রাখতো।

এ ধরনের ভাবনা থেকেই শ্রদ্ধেয় আলেমগণ এই ঈদটি এভাবে উদযাপন করে থাকেন। সাধারণ মানুষ যখন পশু কুরবানী দিয়ে ঈদ উদযাপন করেন, তখন আলেম-উলামা ও তালেবে ইলমগণ নিজেদের ঈদ কুরবানী দিয়ে ঈদুল আযহা উদযাপন করেন।  বিষয়টি চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। এখানে রয়েছে অনেক ত্যাগ ও কুরবানী।

এজন্য সকলের প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধাবোধ রেখে আমাদের মনে হয়, আমভাবে চামড়া সংগ্রহ বন্ধের ডাক দেওয়াটা সার্বিক বিবেচনায়  ইতিবাচক নাও হতে পারে না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরী এই মুবারক পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়ে চামড়া সন্ত্রাসীদের হাতে চামড়া সংগ্রহের কাজটি চলে যেতে পারে। সাথে সাথে কুরবানী নামক পবিত্র ইবাদতের সাথে যুক্ত হয়ে যেতে পারে অসংখ্য শরীআত বিরোধী কর্মকান্ড। ফলশ্রুতিতে এই ইবাদতটি ত্রুটিযুক্ত হয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে বলে অনেক অভিজ্ঞজন মনে করেন।

এদেশের দেশপ্রেমিক জনগণ, সৎ চামড়া ব্যবসায়ীগণ, সমাজের সৎ,দেশপ্রেমিক এবং ধার্মিক ব্যক্তিবর্গ, কওমী মাদরাসার বোর্ডসমূহের শ্রদ্ধেয় দায়িত্বশীলগণ কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী এবং সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করলে চামড়ার মূল্যহীনতার এই কৃত্রিম সংকট দূর করতে খুব বেশী দেরি হওয়ার কথা নয়। অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের কাছে বিনীত নিবেদন পেশ করাই আমাদের আজকের এই লেখার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

লেখক: মাদরাসা পরিচালক, খতিব ও লেখক

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ