ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন এবং পশু কুরবানিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা হিন্দুত্ববাদের উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-এর নিয়মিত মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানরা নিজেদের জন্মভূমিতেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিমবিরোধী নীতিকে উসকে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। মনে হচ্ছে তাদের একমাত্র লক্ষ্য মুসলমানদের দমন করা। পশ্চিমবঙ্গের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং মসজিদের মতো পবিত্র স্থানকে সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের এ নেতা বলেন, মানবাধিকারবিরোধী এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে জাতিসংঘ-কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একইসঙ্গে মুসলিম বিশ্বের নেতাদেরও এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওআইসি-কে সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভারতে মুসলিম নির্যাতন বন্ধে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।সভায় সঞ্চালনা করেন নগর সেক্রেটারি আবদুল আউয়াল মজুমদার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, এম এইচ মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক মৃধাসহ মহানগর নেতারা।
আরএইচ/