বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে ফেসবুকে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে অপপ্রচার শনাক্ত করেছে ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’।
ফেসবুকে ছড়ানো ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘চাইনিজ ভাষায় তারা চি চাং চুং কী সব বলছে। আমরা না বুঝে সায় দিছি। পরে গণমাধ্যমে দেখি ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ ২৫ টাকা।’
তবে ‘দ্য ডিসেন্ট যাচাই করে দেখেছে, জ্বালানি মন্ত্রীর নামে ছড়ানো উক্তিটি ভুয়া। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এমন কোনো মন্তব্য করেননি। সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে এমন কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে চীনের কাছ থেকে ২৫ টাকা ইউনিট দরে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
গত ২৭ আগস্ট একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা চীনের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনবো প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে। এটা এমনিতে মনে হচ্ছে অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের লাভটা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আমাদের ময়লা আবর্জনাগুলো তো তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং সেখানে যে ময়লা আবর্জনা ওয়েস্ট থাকছে, সেখান থেকে জৈব সার হচ্ছে। তারা ল্যান্ডফিল ব্যবহার করবে, এটার জন্য তারা সিটি করপোরেশনকে মাসিক একটা ভাড়া দেবে এবং এই জায়গায় বাংলাদেশ সরকারের বিন্দুমাত্র কোনো ইনভেস্ট করতে হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ময়লা আবর্জনা আমাদের একটা বড় বোঝা— এই জাতির জন্য, ঢাকা শহরের জন্য। এখান থেকে যদি তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আমাদের ফ্রি দেয় এবং মূল্যটা বেশি মনে হচ্ছে, কিন্তু পরিবেশের দিক বিবেচনা করলে আমাদের ওই খরচটা আবার অন্যভাবে চলে আসবে।’
প্রসঙ্গত, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেইজ থেকে বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট ও দ্য ডিসেন্টসহ কয়েকটি ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান সেসব অপপ্রচার শনাক্ত করে সঠিক সংবাদ প্রকাশে কাজ করছে। জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে অপপ্রচার শনাক্ত সেই প্রচেষ্টারই একটি।
আইও/