জিয়া হাসান
লাইন অফ কন্ট্রলে ভারতের হামলাটা, ভারতের সফট পাওয়ারের বিশাল বড় পরাজয়।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করে, অস্ত্র, আর্মি, বোমারু বিমান, যুদ্ধ জাহাজ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হার্ড পাওয়ার এখন একাবিংশ শতকের বিশ্বে ক্ষমতার কোন পরিচয় নয়। আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বে ক্ষমতার মূল শক্তি এখন হার্ড পাওয়ার, এলায়েন্স তৈরি করার ক্ষমতা, আপনার বক্তব্য বিশ্ব নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষমতা, বিশ্ব জনমত তৈরি করার ক্ষমতা।
ভারত যতই হার্ড পাওয়ার তৈরি করুক, নিউক্লিয়ার ডিটারেন্সের কারণে, সেই হার্ড পাওয়ারের তেমন কোন মুল্য নাই। কারণ, ভারত জানে সে কখনোই পাকিস্তানকে সেই পরিমাণ গুতাতে পারবেনা, যেই পরিমাণ গুতালে পাকি জেনারেল গুলো জাস্ট নিজের ক্ষমতা প্রমান করার জন্যে নিউক্লিয়ার মেরে দিবে।
একই প্রশ্ন পাকিস্তানের জন্যেও খাটে। পাকিস্তান কখনোই ভারতকে সেই পরিমাণ টিজ করবেনা, যার ফলে একটা ফুল স্কেল যুদ্ধ নামে।
সো, ভারত পাকিস্তানের মধ্যে এখন একটা ফুল স্কেল যুদ্ধ এখন, সহজ বাংলায়, ইম্প্রবেবল বা অসম্ভব।
যুদ্ধ না হওয়া মানে তো না যে, বিরোধ হবেনা। বিরোধ হবে, দুই পক্ষের সৈন্যদের মধ্যে গুতাগুতি হবে। লাইন অফ কন্ট্রোলে কেউ কেউ মারা পরবে।
এই দ্বন্দ্ব গুলোর জয় পরাজয় নির্ধারণ হবে, সফট পাওয়ার দিয়ে। (কিছু দিন আগে, মিয়ানমারে আমাদের বিজিবির জওয়ানের আটকে থাকার সময়ে বাংলাদেশের সফট পাওয়ারের অক্ষমতা টের পাচ্ছিলাম। যদিও আমাদের আর্মি পন্থী জনগণ পারলে ট্যাঙ্ক নামায় দেয়। যাক সে অন্য আলোচনা।)
তো এই অবস্থায় ভারতের সেনা ছাউনিতে সৈন্যদের উপরে যে হামলা হয়েছে তার পরে ভারত যে, যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব নিয়েছে - সেইটা জাস্ট একটা শো অফ মাত্র।
ভারতের মূল উদ্দেশ্য ছিল,তার সফট পাওয়ার ব্যবহার করে পাকিস্তানকে এক ঘরে করে ফেলা। এবং আন্তর্জাতিক জনমত নিজের পক্ষে নিয়ে আসা এবং বিশাল একটা হই হুল্লোড় সৃষ্টি করা।
কিন্ত, বাস্তবতা হইলো, এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র যার সাথে ভারত এখন খুব গভীর আত্মিয়তা গড়ে তুলেছে, সেও এইটাকে ভারতের মত খেলে নাই। চীন এবং রাশিয়া বলতে গেলে, টেকনিকালি পাকিস্তানের পক্ষেই থেকেছে।
ভারতীয় মিডিয়া যুদ্ধ যুদ্ধ বলে ফাটায় ফেললেও আন্তর্জাতিক বিশ্ব ঘটনাটাকে তেমন সিরিয়াসলিই নেয় নাই। পাকিস্তান- ভারতের চিরন্তন বিরোধের আর একটা ধাক্কা ধাক্কি হিসেবে দেখেছে এবং পাকিস্তান এক ঘরে করার তেমন কোন এটেম্পট তার কাজে আসে নাই।
তা