সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


আরাকানি ৬ আলেমের দুঃখগাঁথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মুফতি রিদওয়ানুল কাদির
মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া টেকনাফ

সুহৃদ! আজ কয়েকজন মজলুম আরাকানি আলেমের কথা বলবো, যাদের বেদনার গল্প শোনাবো, তারা সবাই আমার সহপাঠী। আসুন শুরু করি।

এক
মাওলানা মুফতি হামিদ হোসাইন

আমরা ২০১৩ সনে জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ায় একসাথেই দাওরায়ে হাদিস পড়েছি। এরপর আমি ইফতা পড়ি ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরায়। আর সে ইফতা পড়ার জন্য ভর্তি হয় জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার ইফতা বিভাগে।

ছাত্র হিসেবে সে ছিল প্রচণ্ড মেধাবী। দাওরায় মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কিতাবের ইবারতও পড়তো। যথেষ্ট মনোযোগী ছাত্র হিসেবে সে সবার কাছে পরিচিত ছিলো। দাওরায় আরকানের ছাত্রদের মধ্যে সেই সবচেয়ে মেধাবী ছিলো।

তার আরেকটা অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিলো, সে নিজের খরচের টাকা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে কিতাব সংগ্রহ করতো। কিতাবের বিশাল সংগ্রহ দেখতাম তার রুমে।

বার্মায় সে দারুস সাকাফা ইসলামিয়া মাদরাসায় মিশকাত প্রথম খণ্ড, হেদায়া তৃতীয় খণ্ড, হেদায়াতুন্নাহুসহ দরসে নেজামীর অসংখ্য দুর্বোধ্য কিতাবের দরস দিয়েছে।

যাই হোক সে পড়ালেখার পর বার্মায় চলে গিয়েছিলো। কুরবানির পর বাংলাদেশে হিজরত করে এসেছে।

কয়েকদিন আগে সেকি কান্না! সবচেয়ে বড় আফসোস প্রকাশ করলো, নিজের অনেক স্বাধের কিতাবগুলো আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে বলে!

তার ভাষ্য, ফতোয়ায়ে শামী, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগীরী), আহসানুল ফাতাওয়াসহ অসংখ্য কিতাব ভস্মীভূত হওয়ার দৃশ্যগুলো এখনো ভেসে উঠলে অন্তরটা ভেঙে চৌচির হয়ে যায়!

দুই
মাওলানা মুফতি ইদরীস

আমাদের সাথে জামিয়া পটিয়ায় দাওরায়ে হাদীস শেষ করার পর পটিয়ার দারুল ইফতায় ভর্তি হয়ে ইফতা কোর্স শেষ করে। শারীরিকভাবে হালকা পাতলা হলেও তার একটি অনুসন্ধিৎসু মন ছিলো। তাহকিকি মেজাজ ছিলো তার মাঝে। উস্তাদদের সেবায় তাকে উদয়াস্ত অন্তপ্রাণ দেখতাম।

কিতাব মুতালাআর প্রতি বেশ ঝোঁক ছিলো। অন্যান্য ছেলেদের মতো খুব বেশি আড্ডা দিতেও দেখা যেতো না।

বার্মায় হেদায়া, তালখিসুল মিফতাহ, মুখতাসারুর মাআনি, শরহে জামী, কাফিয়া, সিরাজীসহ অসংখ্য কিতাব পড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে তার।

আহ! কিন্তু আজ তাকে দেখে নিজের অশ্রুকে সংবরণ করতে পারিনি। তার বিধ্বস্ত চেহারা আমার হৃদয়টাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।

তিন
মাওলানা à¦