সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


‘শাপলার ঘটনার সঙ্গে কওমি স্বীকৃতির সম্পর্ক নেই; এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান নদভী। বিদগ্ধ লেখক, শিক্ষাবিদ আলেম ও আধ্যাত্মিক পুরুষ। রাজধানী ঢাকার মাদরাসা দারুর রাশাদের প্রিন্সিপাল। যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দীন আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভীর খলিফা।

কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি বিষয়ে এক বিকেলে তার সাথে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদক হাসান আল মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন দারুর রাশাদের শিক্ষক লেখক ইব্রাহীম জামিল

আওয়ার ইসলাম: জাতীয় সংসদে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস সনদের স্বীকৃতির বিল পাস হয়েছে, বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন?

মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান: আমি তো মনে করি, এটা আমাদের কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থার একটি স্বীকৃতি। যেটা ব্রিটিশ আমলে দারুল উলুম দেওবন্দ চালাচ্ছিল।

দারুল উলুম দেওবন্দ ব্রিটিশ আমলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার সম্ভব ছিল না, যেহেতু পরাধীন রাষ্ট্র ছিল। নিজেদের দ্বীন ঈমানের স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল।

আমরা যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশে আছি, এ দেশে আমরা আলাদা কিছু হয়ে থাকব, আওয়াম-পাবলিক ও এ দেশের শিক্ষা-সমাজ থেকে আমরা সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে থাকব, আমাদের দেশের সমাজে, এ দেশের রাষ্ট্রে আমাদের কোনো দাম থাকবে না, এটা পরাধীন দেশে হতে পারে, স্বাধীন দেশে চিন্তা করা যায় না।

সে হিসাবে এ স্বীকৃতি আমি মনে করি, আমাদের কওমি অঙ্গনের একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

আওয়ার ইসলাম: স্বীকৃতির এই ঘোষণা মাদারে দারুল উলুম দেওবন্দের চিন্তা দর্শনের সাথে কতটা যৌক্তিক?

মুহাম্মাদ সালমান: আমি মনে করি, অযৌক্তিক কোনো কিছু না। দেওবন্দের চিন্তা ছিল একটা দিফায়ি কোশেশ (প্রতিরোধমূলক চিন্তা), ইক্বদামি কোশেশ (আগ্রাসনমূলক চিন্তা) না, বেঁচে থাকার চিন্তা।

আর বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে যে কওমি মাদরাসা চলছে এবং অন্য যেসব দেশে যেসব কওমি মাদরাসা চলছে, আমি মনে করি তাদেরও উচিত এখন ইক্বদামি কোশেশ করা এবং এগিয়ে যাওয়ার।

ওই সময় ছিল বেঁচে থাকার, এখন বেঁচে থাকার না, অধিকার আদায় করা এবং স্বপ্নের লাইনে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। সে হিসাবে এটা ঠিকই আছে।

আওয়ার ইসলাম: দেওবন্দের ৮ মূলনীতির সাথে স্বীকৃতির