মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

'আমরা যারা অনলাইনে কিংবা অফলাইনে উঠতি দাঈ...'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক


বর্তমানে যারা লেখালেখির কাজ করেন বা এর মাধ্যমে দাওয়াহর কাজ করেন তাদের জন্য শিক্ষণীয় একটি ঘটনা। মুফতি আল্লামা তাকি উসমানির এ ঘটনা থেকে অনেক কিছুই শেখার রয়েছে। লেখার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত এসব ভুলগুলো করে থাকি।

আইয়্যুব খানের সামরিক শাসন চলছিল তখন। মুসলিম আইনকে পাশ কাটিয়ে তিনি একটি পারিবারিক আইন জারি করেছিলেন। স্থানীয় অধিকাংশ আলিমগণ এর বিরোধিতা করেছিলেন। তবে এক লোক এই পারিবারিক আইনের প্রতি সাফাই গেয়ে একটি বই রচনা করে। বইটিতে কুরআন-সুন্নাহর দলিলের অপব্যাখ্যা করে এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় যে জারি করা পারিবারিক আইন কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী নয়।

তখন তাকি উসমানিকে তাঁর বাবা বিচারপতি শাফি উসমানি (রহিমাহুল্লাহ) সেই বইয়ের বিরুদ্ধে একটি জবাব লেখার আদেশ দেন। যুবক বয়সের জোশে পূর্ণ মাওলানা তাকি উসমানি তখন বই ও লেখকের প্রতি ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ ও তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে একটা সমালোচনাপূর্ণ বই লেখেন। লেখককে অনেক উপহাসও করা হয় এই বইটিতে। বইটি প্রকাশের পূর্বে তিনি তাঁর বাবাকে দেখতে দেন।

তাঁর বাবা তখন বলেন, “বাবা! তুমি তো সাহিত্যের বিচারে খুব সুন্দর কিতাব লিখেছ। এর সাহিত্যমান অনেক উন্নত। কিন্তু আমাকে বল, তুমি কি এটা এজন্য লিখেছ যে, যারা আগে থেকে তোমার পক্ষে আছে তারা বাহবা দিবে এবং বলবে, বাহ! কত চমৎকার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছে! কী শক্তিশালী কায়দায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হয়েছে। যদি তাদের এমন প্রশংসা লাভের জন্য লিখে থাক তাহলে তোমার এ কিতাব খুবই সফল একটি কিতাব। তোমার পক্ষের লোকেরা এই কিতাব পড়লে পঞ্চমুখে তোমার প্রশংসা করবে।

কিন্তু উদ্দেশ্য যদি এই হয় যে, যারা ওই কিতাব পড়ে গোমরাহ হয়েছে তাদেরকে পুনরায় চিন্তা-ভাবনা করতে উৎসাহিত করা এবং তাদেরকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করা তাহলে তোমার এই রচনার কানাকড়িও মূল্য নেই। কারণ তুমি শক্ত ভাষায় আক্রমণ করে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে প্রথমেই তাদেরকে বীতশ্রদ্ধ করে দিয়েছ।

প্রথমেই তারা এটা ভাববে যে, এ তো আমাদের বিপক্ষের কেউ লিখেছে। আমাদের সঙ্গে দুশমনি করে লিখেছে। তাই এই কিতাব থেকে তারা কিছু গ্রহণ করতে পারবে না। সুতরাং এই কিতাব লেখার উদ্দেশ্য যদি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং মানুষের হেদায়াতের পথ সুগম করা না হয়ে থাকে তাহলে তোমার এই কিতাবের এক পয়সাও দাম নেই।”

তার