শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ।। ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৫ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, গন্তব্য মালয়েশিয়া-চীন যশোরে বিজিবির অভিযানে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে থাকা অবস্থায় যুদ্ধবিরতি ‘অর্থহীন’ : হিজবুল্লাহ মালয়েশিয়ায় ১১৮ অবৈধ বাংলাদেশি আটক উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ডিগ্রি বাস্তবায়ন চায় ইউজিসি আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা একটা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা ভাঙল বিজেপি সরকার কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, জনগণ জানে: জামায়াত আমির কর্মবিমুখতা থেকে ভিক্ষাবৃত্তি: সমাজের নীরব অভিশাপ

নুসরাত হত্যা: নেপথ্যের প্রধান কাউন্সিলর মাকসুদ আলম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অন্যতম নায়ক, পরিকল্পনাকারী ও অর্থ লগ্নীকারী ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলম।

নুসরাত হত্যা মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ২১১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ রায়ের কপি সম্প্রতি হাইকোর্টে এসেছে।

রায়ে বলা হয়েছে, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে হত্যার নির্দেশদাতা হলেও ওই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অন্যতম নায়ক, পরিকল্পনাকারী ও অর্থ লগ্নীকারী ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলম।

এছাড়া হত্যার পূর্ব পরিকল্পনার বিষয়টি আরেক আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন জানলেও ওই ঘৃণ্য কাজ করা থেকে আসামিদের নিবৃত্ত না করে তাদের রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন। আসামি রুহুলের এই নেতিবাচক ভূমিকা নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণের শামিল মর্মে রায়ে বলা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, এটা নিশ্চিত যে সোনাগাজী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ভিকটিম নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হবে এবং কারা দেবে সেটা ঘটনা সংঘটনের আগ থেকেই তিনি অবহিত ছিলেন। কিন্তু অবহিত থাকার পরেও অগ্নিসংযোগ প্রতিহত না করে অগ্নিসংযোগকারীদের গা ঢাকা দিতে পরামর্শ দেন।

এই আসামি ইচ্ছা করলে অবশ্যই অপরাপর আসামিদের নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানো হতে নিবৃত্ত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তার সহযোগিতায় পরিচালিত সিরাজ-উদ দৌলা মুক্তি আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে যারা আগুন সন্ত্রাসে জড়িত ছিলেন তাদেরকে তিনি বদনামীর হাত থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হন।

এছাড়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে, মাকসুদ কাউন্সিলরকে অবহিত করেই তিনি শাহাদাত হোসেন শামীম ও নূরুদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নুসরাতকে হত্যা করতে।

তারা আমার এই কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে। এছাড়া মাকসুদ কাউন্সিলরের পরামর্শ মোতাবেক গত ৪ এপ্রিল গভীর রাতে হত্যা পরিকল্পনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা আসামি নূরুদ্দিনের জবানবন্দিতে উঠে আসে।

দোষ স্বীকারের জবানবন্দিতে সে বলে, শামীম ও আমি মাকসুদ কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি হত্যার পরিকল্পনায় সায় দেন। শামীমকে দশ হাজার টাকাও দেন কাউন্সিলর।

গত ২৪ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় সিরাজ, রুহুল, মাকসুদ, শামীম, নূরুদ্দিনসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ