শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ।। ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৫ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
যশোরে বিজিবির অভিযানে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে থাকা অবস্থায় যুদ্ধবিরতি ‘অর্থহীন’ : হিজবুল্লাহ মালয়েশিয়ায় ১১৮ অবৈধ বাংলাদেশি আটক উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ডিগ্রি বাস্তবায়ন চায় ইউজিসি আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা একটা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা ভাঙল বিজেপি সরকার কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, জনগণ জানে: জামায়াত আমির কর্মবিমুখতা থেকে ভিক্ষাবৃত্তি: সমাজের নীরব অভিশাপ বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ব্যর্থ করে দিতে পারে ইসরায়েল: মার্কিন গোয়েন্দাসংস্থা।

ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা ভাঙল বিজেপি সরকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ভারতে গত ৪৫ দিনের মধ্যে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব ঘটনা মূলত বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিররের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব স্থাপনার বেশিরভাগই সরকারি জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ অথবা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পড়ে—এমন দাবি করে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে একাধিক ক্ষেত্রে স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোও এই অভিযানের আওতায় পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু মসজিদ ও দরগাহ বহু বছর ধরে এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে ভাঙচুর বা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোয় অনেক জায়গায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এসব ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে ধর্মীয় স্থাপনার প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রাখা হয়নি। তারা এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপযুক্ত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রগুলো বিভিন্ন সময় জানিয়েছে, এসব অভিযান কোনো ধর্মীয় লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে নয়; বরং অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অবৈধ নির্মাণ অপসারণ এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত দেড় মাসে একাধিক রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযান পরিচালিত হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে প্রশাসনের উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগের যুক্তি, অন্যদিকে ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা ও সংখ্যালঘু অধিকার—এই দুই অবস্থানের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ