বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

রোজা রেখে ভ্যাকসিন নেওয়া বৈধ: শীর্ষ আলেমরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রমজান মানেই মুসলমানদের আনন্দের মাস। সারাবছরের সৌরভ  ও ভাললাগা জমা থাকে যে মাসে, সেটা হলো রমজান মাস। রমজান মাস মুসলমানরা রোজা রাখেন। এই রোজা রেখে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নেয়ার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ কী? ভ্যাকসিন গ্রহণে রোজায় কোনো সমস্যা হতে পারে কিনা? এ বিষয়ে দেশীয় আলেমগণ কী বলছেন? প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন আওয়ার ইসলামের নিউজরুম এডিটর মোস্তফা ওয়াদুদ।


সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামি স্কলাররা জানিয়েছেন, রোজা রেখে ভ্যাকসিন নিতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে অবশ্য দেশের সরকারী সংস্থা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ইসলামিক ফাউণ্ডেশন দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণমাধ্যমে বৈঠকের তারিখও প্রকাশিত হয়েছে। বৈঠকের পর সরকারী সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে আওয়ার ইসলামের সঙ্গে বথা বলেছেন দেশের শীর্ষ কয়েকজন আলেম। তারাও রোজা রেখে ভ্যকসিন গ্রহণে কোনো বাধা দেখছেন না।

রাজধানীর বারিধারা মাদরাসার প্রধান মুফতি মাওলানা ইকবাল হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘ভ্যাকসিন হলো সতর্কতামূলক করোনার চিকিৎসা। করোনা ভাইরাস হলো মরণব্যাধি রোগ। মরণব্যাধি রোগ থেকে বাঁচতে চিকিৎসা নেয়া অত্যন্ত জরুরি। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন মূলত একটি ইনজেকশন। রোজা অবস্থায় যেভাবে ইনসুলিন নেয়া যায়। ঠিক একইভাবে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নেয়া যাবে। কেননা এতে কোন স্বাদ কিংবা খাদ্যের অনুভূতি হয় না। রোজা ভঙ্গ হওয়ার জন্য স্বাদ বা খাদ্যের অনুভূতি হওয়া জরুরী। তাই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিলে রোজা ভাঙবে না। রোজা অবস্থায় ভ্যাকসিন নেয়া যাবে।’

কথা বলেছিলাম বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পানি জাতীয় একটি ঔষধ। আর ওষুধটি ইনজেকশনের মত পুশ করা হয়। যা শরীরের খাদ্যনালীতে পৌঁছায় না।’

একই রকমের কথা বলেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর গবেষণা বিভাগের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে বাংলাদেশি ওলামায়ে কেরামের সাথে শীঘ্রই ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থাপনার জন্য আমি দীর্ঘ একটি গবেষণা প্রবন্ধ তৈরি করেছি। যাতে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ইসলামের দৃষ্টির সমন্বয় করে ওষুধ সেবন এর বিষয়গুলো তুলে এনেছি। গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পানি জাতীয় একটি ঔষধ। যা দেওয়া হয় শরীরের এমন জায়গায়, যেখান থেকে কোনভাবেই খাদ্যনালীতে কিংবা পেটের ভেতরে পৌঁছায় না। আর এতে করে রোজা ভঙ্গের যে শর্ত আছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার কারণে সে সকল শর্ত ভঙ্গ হয় না।’

এদিকে আগামী রোববার (১৪ মার্চ) আগারগাঁয়ে ইফার কার্যালয়ে সরকার কর্তৃক ঘোষিত বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আলেম-উলামা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

বৈঠকে রমজান মাসে ভ্যাকসিন গ্রহণে ধর্মীয় কোনো বিধি-নিষেধ রয়েছে কি-না এটা নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ