সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
নবীন আলেমদের নিয়ে ‘দাওয়াহ, লেখালেখি ও সাংবাদিকতা’ কর্মশালা ভারতে মুসলিম যুবক হত্যা ও বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের নিন্দা নেজামে ইসলাম পার্টির আস-সুন্নাহ কোর্সের শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়ী সাফল্য তুলে ধরলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘ইখলাস ও সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া আমল পূর্ণাঙ্গ হয় না’ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২ হাজার ৮৯ সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে ওমরা পালনে যাচ্ছেন ৩০ বাংলাদেশি হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে ইমাম-খতিবদের সহযোগিতা চায় সরকার ৯০ দিন জামাতে নামাজ, ৩২ শিশু-কিশোর পেল বাইসাইকেল ঢাবিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারিতে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির অনুতাপে অশ্রু

হাসেম ফুডের অগ্নিকাণ্ড ছিল কাঠামোবদ্ধ হত্যাকাণ্ড: নাগরিক তদন্ত কমিটি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটানাকে কাঠোমদ্ধ হত্যা উল্লেখ করে এর জান্য সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোকে দায়ী করছেন নাগরিক তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও নিহতের ঘটনা: তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাগরিক তদন্ত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানার অগ্নিকাণ্ডে সরকারিভাবে ৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও নাগরিক তদন্ত কমিটি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই ও মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে নিহতের সংখ্যা ৫৪ জন এবং আহতের সংখ্যা ৩৩ জন সম্পর্কে নিশ্চিত করে। এছাড়া এই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

নাগরিক তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনুু মুহাম্মদ বলেন, আমরা দেখেছি কোনো তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার পর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে না। এটা মূলত দায়ী ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। এর ফলে আর কোনো অপরাধীকেই শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে মজার মজার খাবার খাচ্ছি এর পেছনে রয়েছে এক নারকীয় গল্প, যেটা আমরা জানি না। এই নারকীয় গল্পের একটি প্লট হলো হাসেম ফুড কারাখানার আগুন। আমরা দেখেছি সেখানে কত শিশু-কিশোরে প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু দোষীরা জামিনে বেরিয়ে এসেছে। হত্যা মামলার আসামিদের এমন জামিন আমাদের বিচারহীনতাকেই ইঙ্গিত করে।

সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডে কারখানা ভবনের অনুমোদন, কাঠামোগত ত্রুটি-বিচ্যুতি, কারখানার কর্মপরিবেশ; শ্রম আইনসহ অপরাপর আইনসমূহ এবং এ সংক্রান্ত বিধিমালাসমূহ প্রতিপালন করা হয়েছিল কিনা এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, প্রথম কারণটি উপকরণগত। ভবনটিতে ফায়ার অ্যালার্ম ছিল না। এর ফলে আগুন লাগার অব্যবহিত পরই তা কেউ টের পায়নি। কর্মীরা মূলত দেখে ও পরস্পরের কাছ থেকে শুনে জানতে পারেন।

দ্বিতীয় কারণটি অবকাঠামোগত। ভবনটিতে আগুনরোধী সিঁড়ি ছিল না। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছ থেকে ফায়ার সেফটি সনদ পেতে হাসেম ফুডস যে লেআউট প্রদান করে তাতে দেখা যায় ভবনের দুটি সিঁড়িই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগুনরোধী উপকরণ দিয়ে মূল অংশ থেকে আলাদা করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিঁড়ি তৈরি হলে সেখানে, ধোঁয়া ঢুকতে পারত না। কার্যত সিঁড়ি দুটি দিয়েই ধোঁয়া উঠে গেছে এবং তাদের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

নাগরিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর কাঠামোগত অবহেলা ও গাফিলতির কারণে বিভিন্ন কারখানায় বারবার অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার ও তাদের জীবন জীবিকা ও সম্পদের ওপর হুমকি তৈরি করছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ