।।কাউসার লাবীব।।
পবিত্র রমজানের পূণ্যময় এক আয়োজন ‘ইফতার’। ইফতার রোজাদারের জন্য পরম আনন্দের। ইফতার করায় যেমন রয়েছে আনন্দ ও সওয়াব, তেমনি ইফতার করানোতেও রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। নবী করিম সা. বলেছেন কেউ যদি কাউকে একটি খেজুর দিয়ে ইফতার করায় তাহলে সে রোজাদারের সমান সাওয়াব পাবে। কিন্তু কোথাও কোথাও পূণ্যময় এ আয়োজনকে ঘিরে চলে অমানবিক ও নারী জাতির জন্য অবমাননাকর ঘটনা। কিছু সমাজে প্রচলিত হয়ে গেছে যে, রমজান এলেই কণে পক্ষের বাড়ি থেকে ইফতারের পসরা সাজিয়ে পাঠাতে হবে বিশেষ উপঢৌকন।
কখনো দেখা যায় ‘সন্তোষজনক’ ইফতার না পাঠালে ঘটে মানসিক নির্যাতন ও অমানবিক ঘটনা। মেয়ে বাড়ির ইফতারের নামে চলে আসা এ প্রথাটিকে ইসলাম কীভাবে দেখে? এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম দেশের অন্যতম ইসলামিক স্কলার ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান’র কাছে।
তিনি বলেন, বিয়ের পর কণে পক্ষের বাড়ি থেকে বর পক্ষের বাড়িতে বিভিন্ন উপঢৌকন পাঠানোর একটি রীতি-রেওয়াজ আমাদের বাংলাদেশের সমাজে কোন কোন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এর মধ্যে ‘রমজানে মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে ইফতার সামগ্রী পাঠানোর রুসমও একটি। রমজান এলে কোনো কোনো অঞ্চলে কণে পক্ষ থেকে যদি ‘সন্তোষজন ‘ ইফতার সামগ্রী না পাঠানো হয়, তাহলে দেখা যায় কণেকে বিভিন্ন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে হয়। এমনকি বিভিন্নভাবে লজ্জিতও হতে হয়। এটি কোনোভাবেই শরীয়ত সম্মত নয়। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ‘কারো সম্পদ ভক্ষণ করা জায়েজ নয় তার সন্তুষ্টি ব্যতীত।’
‘অনেক সময় অনেকে বলে থাকেন, মেয়ের বাড়ি থেকে যে ইফতার সামগ্রী পাঠানো হয় এটি হাদিয়া। কিন্তু আমরা যদি দেখি, সাধারণত মেয়েপক্ষ লোকলজ্জার ভয়ে এবং রুসম পালনের জন্য এই ইফতার সামগ্রী পাঠিয়ে থাকে। তবে যদি কেউ বাস্তবিকভাবেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেয়ের শশুরবাড়িতে ইফতার পাঠিয়ে থাকে তাহলে এটি ভিন্ন বিষয়। একে হাদিয়া হিসেবে ধরা যাবে। তবে হাদিয়া দেওয়ার পদ্ধতি বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরকে হাদিয়া দাও; যেন তোমাদের মাঝে ঋদ্ধতা বৃদ্ধি পায়।’ তাই যদি মেয়ে পক্ষ থেকে ছেলের বাড়িতে ইফতার পাঠানো হয় উপহার হিসাবে, ছেলে পক্ষেরও উচিত মেয়ের বাড়িতে উপহার হিসেবে ইফতার সামগ্রী পাঠানো। বরং ছেলে পক্ষ আগে উপহার দেয়া উচিত। এর মাধ্যমে ন