মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
বইমেলায় শাপলা কর্নার পরিদর্শন করলেন ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এমপি মাওলানা নুরুল ইসলাম খাঁনকে দেখতে হাসপাতালে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রকে পাওয়া গেল চাঁদপুরে, নেপথ্যে যে কারণ আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় দুই দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী মাহফিল শুরু ১৩ নভেম্বর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় উত্তরায় মুহতামিম সম্মেলন কাবার দরজার কারিগর থাই নাগরিক এবার বাদশাহর অতিথি হয়ে সৌদি সফরে প্রবাসীদের অভিযোগের সমাধান হবে ই-মেইলেই কুলাউড়ায় পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ২ শিশুর  ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বিমানবাহিনীর  

মাদরাসার জন্য সরকারি অনুদান বন্ধের প্রস্তাব ফাইলে কী লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: মাদরাসার জন্য সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেয়ার একটি প্রস্তাব দেওয়া হলে বঙ্গবন্ধু ফাইলের ওপরে লিখেছিলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষার জন্য যে বরাদ্দ এত দিন ছিল সেটাই থাকবে। তবে ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ বাড়ানো যায় কি না এবং কতটা বাড়ানো যায় তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’

একদিন চানখাঁরপুলের আওয়ামী লীগের যুবকর্মীরা আমাকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেল। তাদের আবেদন, তিনি যে সুস্থভাবে পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন, সেজন্য তারা একটি উৎসব করবে। উৎসবের জন্য কিছু টাকা প্রয়োজন।

তিনি তাদেরকে বললেন, ‘পাবি, টাকা আমি দেব, তবে কী করবি?’ ওরা সমস্বরে বলল, ‘আমরা বাজি পোড়াব, গানবাজনা করব।’ তিনি তার ক্রোধের অনবদ্য ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ঐ, মুসলমানরা খুশি হইলে বাজি পোড়ায়, না মিলাদ পড়ায়? যা, মিলাদের ব্যবস্থা কর। আর সৈয়দ সাহেবকে দিয়া মিলাদ পড়াইয়া দে।’

আমি প্রতিবাদ করে উঠলাম, ‘আমি মিলাদ পড়াতে জানি না।’ তিনি একটি ছদ্ম রাগ দেখিয়ে আমাকে বললেন, ‘মিথ্যা কথা কন ক্যান, আপনি পড়াইবেন, যান।’

যাই হোক, মিলাদের অনুষ্ঠান হয়েছিল এবং সেজন্য মৌলভী সাহেব আনা হয়েছিল। মিলাদের পর তেহারি খাওয়া হয়েছিল এবং একেবারে শেষে কিছু বাজিও পোড়ানো হয়েছিল।

টেলিভিশনের তৎকালীন মহাপরিচালক জামিল চৌধুরী আমাকে দিয়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কথা রেকর্ড করিয়ে নিল। এগুলো ছিল জীবনযাপনের ন্যায়নীতিসংক্রান্ত কথা। সে আমাকে জানাল, যেহেতু বাংলাদেশ এখন ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, সুতরাং রেডিও-টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের শুরুতে কোনো ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হবে না, তার পরিবর্তে কিছু আদর্শগত বাণী পাঠ করা হবে। এই বাণী বোধ হয় এক দিন কী দুই দিন টেলিভিশন থেকে পাঠ করা হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু এ বাণী শুনে ভয়ানক রুষ্ট হয়ে জামিল চৌধুরীকে ডেকে পাঠান। সেখানে এম আর আখতার মুকুল এবং আরো কয়েকজন ছিলেন। সম্ভবত আওয়ামী লীগের নেতা টাঙ্গাইলের আবদুল মান্নান সেখানে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু জামিল চৌধুরীকে লক্ষ করে প্রশ্ন করলেন, ‘একজন মুসলমানের বাড়িতে সকাল বেলা কিসের শব্দ শোনা যায়, গানের না হরিবোলের?’ সবাই তখন তটস্থ হয়ে গেছে। তিনি তখন নিজেই উত্তর দিলেন, ‘মুসলমানের ঘরে কুরআন শরিফের আওয়াজ শোনা যায়। আজ থেকেই রেডিও-টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি কুরআন শরিফের আওয়াজ শুনতে চাই।’

তিনি অবশ্য অবিকল এ ভাষায় বলেননি। তার একটা দেশজ ভঙ্গি ছিল, সেটা সবাই জানেন। তার বলার ভঙ্গিতে একটা স্বাভাবিক বলিষ্ঠ প্রত্যয় ধরা পড়ত। সৈয়দ আলী আহসান এর ‘বঙ্গবন্ধু : যে রকম দেখেছি’ প্রবন্ধ থেকে।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ