আবু সাঈদ
প্রতিবেদক
দেশে দিনদিন সমিতির সংখ্যা বাড়ছে। শহরের মোড়ে মোড়ে দেখা যায় নতুন নতুন নামের বিভিন্ন সমিতির কার্যালয়। কেউ কনভেনশনাল প্রক্রিয়ায় সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সুদের ভিত্তিতে ক্লাইন্টদের সাথে লেনদেন করছে। কাউকে আবার ‘শরিয়াহ অনুমোদিত’ লিখেও বিলবোর্ড সাঁটাতে দেখা যাচ্ছে। ক্লাইন্টদের অংশগ্রহণও অপ্রতুল নয়। ‘শরিয়াহ অনুমোদিত’ দেখেই অনেকে সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগও নিচ্ছে প্রয়োজনে। অনেকে সমিতিটি ‘কতটুকু শরিয়াহ অনুমোদিত’ জানার জন্য ইসলামি অর্থনীতিতে অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের দ্বারস্থও হচ্ছেন। তবে উলামায়ে কেরাম বরাবরই সমিতিগুলোর ব্যাপারে অনাস্থা প্রকাশ করে আসছেন।
মোহাম্মাদ কবির হোসেন রামপুরা একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি করেন। তার আয়ের একটি অংশ স্থানীয় একটি সমিতিতে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন। তারা ‘শরিয়াহ অনুমোদিত’ দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে তিনি মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি আওয়ার ইসলামকে বলেন, আমাদের মসজিদের ইমাম একজন বিজ্ঞ আলেম। সমিতির নাম নিয়ে বিনিয়োগ বিষয়ে পরামর্শ চাইলে তিনি আমাকে অনুৎসাহিত করেন। বলেন, তাদের কার্যক্রমে এখনো আস্থা রাখা যায় না।
বাংলাদেশে ইসলামি অর্থনীতির পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান আইএফএ কনসালটেন্সি লি. এর কনসালটেন্সি ডিপার্টমেন্টের প্রধান ও বাহরাইন ভিত্তিক ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শরিয়াহ স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান এ্যাওফি কর্তৃক সার্টিফাইট শরিয়াহ এডভাইজার এ্যান্ড অডিটর মুফতি যুবায়ের আবদুল্লাহর কাছে ‘শরিয়াহ অনুমোদিত’ সমিতিগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা হলো, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাদের অনেক কাজই শরিয়াহ সমর্থিত নয়। কোথাও শরিয়ার কোন মডিউলের নাম ব্যবহার করলেও তার অন্তর্নিহিত যেসব শর্তাবলী ও নীতিমালা রয়েছে, সেগুলো মানছে না। এজন্য সমিতিগুলোর কার্যক্রমে আমরা আস্থাশীল হতে পারছি না।’
‘সমিতির ধারণা কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত। সমমনা কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে তাদের আয়ের ক্ষুদ্র অংশে ফান্ড তৈরি করা এবং পররর্তীতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তা থেকে লাভবান হওয়া, এসবে মৌলিকভাবে কোন সমস্যা নেই।’ সমিতির ধারণা ইসলামে সমর্থিত কিনা জানতে চাইলে জামিয়া ইসলামিয়া দিলুরোডের এ ডেপুটি মুফতি এমন মন্তব্য করেন।
শরিয়াহ সম্মত উপাà§