বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

মসজিদে নববির লাইব্রেরিতে অসম্ভব সুন্দর এক কিতাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি জিয়াউর রহমান ।।

জানাযার নামাজে সূরা ফাতিহা। মসজিদে নববির লাইব্রেরিতে দেখলাম ইমাম কুদুরী রাহ. লিখিত আরেকটি অনবদ্য কিতাব- التجريد موسوعة القواعد الفقهية المقارنة ইমাম আবুল হুসাইন কুদুরী রাহ. লিখিত মুখতাসারুল-কুদুরী কিতাব ছাড়াও আরেকটি চমৎকার ও উপকারী কিতাব যে আছে, তা জানা ছিলো না৷ এর আগে শুনে থাকলেও স্মরণ নেই৷ যাক 'আত-তাজরীদ' নামক কিতাবটির সঙ্গে দেখা হলো মসজিদে নববির লাইব্রেরিতে৷ এখানেও মুআয ভাইর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব৷

আমরা যারা ফিকহে হানাফী অনুযায়ী আমল করি, এখানে একটি মাসআলার মুখোমুখি হতেই হবে৷ সেটি হচ্ছে- জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার মাসআলা৷

যেহেতু হানাফী মাযহাবে জানাযার নামাযে কিরাত নেই, তাই সূরা ফাতিহা পড়াও নেই৷ অথচ হারামাইনে জানাযায় নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া হয়৷ মাইকের সাউন্ড বেশি হওয়ায় ইমাম সাহেব অনুচ্চ আওয়াজে পড়লেও শুনা যায়৷

মসজিদে নববিতে যে কদিন ছিলাম, একদিনের ইশার নামায ছাড়া সব ওয়াক্তের নামাযের পরই জানাযা ছিলো৷ যারা হারামাইনে সালাত আদায় করবেন, সালাত পরবর্তী জানাযায় শরিক হতে ভুলবেন না৷ খুব সহজেই বড় সওয়াবের অংশিদার হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা মোটেও সমীচীন হবে না৷

আত-তাজরীদ কিতাব খুলতেই জানাযা অধ্যায় বের হলো৷ এই মাসআলাটিও সামনে চলে এলো৷ ইমাম কুদুরী পরিষ্কারভাবে লিখেছেন, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া যেমন ওয়াজিব নয়৷ কেউ পড়ে নিলে মাকরুহও হবে না৷

হ্যাঁ অন্যান্য কিতাবে আরো ব্যাখ্যাসহ বলা হয়েছে যে, কিরাত হিসেবে নয়, আল্লাহ তাআলার হামদ, সানা ও দুআ হিসেবে সূরা ফাতিহা পড়া যাবে৷ কেননা জানাযার নামায হচ্ছে, দুআ৷ দুআতে কিরাত পড়া হয় না, এটাই নিয়ম৷

তাহলে বোঝা গেলো, আমাদের দেশে হানাফী মাযহাব ও আহলে হাদীস মাযহাবের মধ্যকার জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া না পড়া নিয়ে যে ঝগড়া হয়, তা সম্পূর্ণই نزاع لفظي তথা শাব্দিক দ্বন্দ্ব বৈ কিছু নয়৷ তারা কিরাত হিসেবে পড়েন৷ আমরা বলি- পড়লে অসুবিধা নেই৷ কেননা দুআ ও সানা হিসেবে তো পড়া যায়৷

এক সালামে জানাযার নামায হানাফী এবং শাফেঈ মাযহাবে জানাযার নামায দুই সালামে শেষ করতে হবে৷ অপরদিকে মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবে এক সালাম৷ তবে দুই সালাম দিলেও সমস্যা নেই৷ হারামাইনের ইমাম সাহেবান হাম্বলী ফিকহ ফলো করেন হিসেবে একদিকে সালাম ফিরিয়েই নামায শেষ করেন৷ আমরা যারা হানাফী, দুদিকেই সালাম ফেরাব৷

কেননা আমাদের মাযহাবের দলিল তাদের চেয়ে শক্তিশালী৷ তাছাড়া যুক্তির বিচারেও দুদিকে সালাম ফেরানোই উচিত৷ ইশার পর মুআয ভাই নিয়ে গেলেন মদিনার সুপ্রসিদ্ধ রেস্টুরেন্ট 'মাত'আম মেহরান'-এ৷ আলীশান খাবার হলো৷ ভাত নয়, রুটি-গোশত ও আনুষঙ্গিক আইটেম৷ মদিনায় প্রায় ৬দিন অবস্থান করেছি৷ ভাত খেয়েছি মাত্র তিনবেলা৷ বাকি নাস্তার উপর চলেছে৷ সফরে ভাত কম খেয়ে থাকতে পারলে ভালো৷ শরীর হালকা-পাতলা থাকে৷ চলাফেরা ও কাজকর্ম সহজ হয়৷

সূত্র: মুফতি জিয়াউর রহমানের টাইমলাইন থেকে। যিয়ারতে হারামাইনের কারগুজারি পর্ব-১৩

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ