বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠলো ইরানের কেশম দ্বীপ আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রমজানের মধ্য দশক মাগফিরাত; ক্ষমা প্রার্থনার সুবর্ণ সুযোগ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।আহমাদ মাসুম।।

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘রমজানের প্রথম দশক হলো রহমতের, মধ্য দশক হলো মাগফিরাতের, শেষ দশক হলো নাজাতের।’ সাধারণত বলা হয়ে থাকে প্রথম দশকে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত বা দয়া বর্ষণ করতে থাকেন। দ্বিতীয় দশকে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করতে থাকেন। তৃতীয় দশকে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জাহান্নাম থেকে নাজাত বা মুক্তি দিতে থাকেন।

রমজান হলো তাকওয়া অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের মাস। তাই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন কারিমে বলেছেন: হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি; আশা করা যায় যে তোমরা তাকওয়া অর্জন করবে। (সূরা বাকারা আয়াত নং: ১৮৩) আল্লাহ চান তাঁর বান্দা তাঁর গুণাবলি অর্জন করে সে গুণে গুণান্বিত হোক।

ইতিমধ্যেই আমাদের থেকে রমজানের প্রথম দশক, তথা রহমতের দশদিন বিদায় নিয়েছে। জানিনা আমরা কতটুকু রহমত অর্জন করতে পেরেছি! আল্লাহ যেনো এই রহমতের উসিলায় পরবর্তী রমজানের রহমতের দশক পর্যন্ত আমাদের উপর রহমত বর্ষণ করেন। এবং পরবর্তী রমজান পর্যন্ত যেনো আমাদের হায়াত দারাজ করে দেন। রমজান মাসের মধ্য দশক হলো মাগফিরাত বা ক্ষমার। যা আগামী কাল থেকে শুরু হবে।

সুতরাং এই ১০ দিন আমাদের করণীয় হবে: বেশি বেশি তাওবা ইস্তিগফার করা। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর নিকট নিজের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া। অন্তরে এই কথা পাকাপোক্ত করা যে, মৃত্যু পর্যন্ত আর গুনাহ করবনা! আল্লাহ তুমি তৌফিক দাও।

এছাড়াও আল্লাহ পাকের ক্ষমা-সংক্রান্ত নামগুলো বেশি বেশি পাঠ করা। তিনি ক্ষমার আধার। তিনিই ক্ষমাকারী। তিনি ছাড়া আর কেও নেই ক্ষমা করার। তিনিই একমাত্র রাজাধিরাজ। এগুলো বেশি করে স্বরণ করা। হাদিস শরিফে আছে, অপরাধ স্বীকারকারী ব্যাক্তি নিরপরাধ ব্যক্তির মতো। (বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি) আর যখন অপরাধী ব্যাক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় সে তখন, সদ্য জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ শিশুর মত হয়ে যায়।

আপনি ক্ষমা লাভ করেছেন বা ক্ষমার অধিকারী হয়েছেন তা বোঝা যাবে আপনার আচরণে। আপনার আচার-আচরণে যদি ক্ষমা প্রকাশিত হয়।নতুবা নয়। এতএব, রমজানের দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের ১০ দিন করণীয় হলো সর্বোচ্চ ক্ষমা প্রার্থনা করা। ও দিল থেকে তাওবা করা। মাগফিরাতের দশক শেষ হওয়ার পর শুরু হবে নাজাতের বা মুক্তির দশদিন। তথা শেষ দশক।

সুতরাং এই ১০ দিন আমাদের করণীয় হবে: দুনিয়ার সবকিছুর আকর্ষণ ও মোহ থেকে মুক্ত হয়ে প্রভুপ্রেমে বিভোর হওয়া। বিশেষ করে সব ধরনের অন্যায় অপরাধ, পাপ ও গুনাহ, যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়; যথা: অবৈধ সম্পদ, অন্যায় ক্ষমতা লিপ্সা ও পাপাচার। এগুলো থেকে নিজের মন ও মানসকে সম্পূর্ণরুপে মুক্ত করা। এবং সেসবের আকর্ষণ থেকে পরিপূর্ণরূপে মোহমুক্ত হওয়া। হাদিস শরিফে আছে, দুনিয়ার আকর্ষণ সব পাপের মূল। (বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি)।

তাই রমজানের তৃতীয় দশক নাজাতের বা মুক্তির ১০ দিন করণীয় হলো, দুনিয়ার সবকিছুর আকর্ষণ থেকে সম্পূর্ণ মোহমুক্ত হওয়া। ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য বেশি করে দোয়া করা। কেননা আল্লাহপাক এই দশকেই গুনাহগার পাপী বান্দাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এই দশকের অন্যতম একটি আমল হলো— মসজিদে এ'তেকাফের নিয়তে অবস্থান করা। এবং এই দশদিন মসজিদে এ'তেকাফ করে হাজার মাসের থেকে উত্তম রাত্রি শবে কদর তালাশ করা। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন।

আল্লাহ পাক আমাদের প্রকৃত দয়া, ক্ষমা ও মুক্তিলাভের তাওফিক দিন এবং রমজানে পাওয়া শিক্ষা ও আমল নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত চলার তৌফিক দিন। আমিন।।

লেখক, শিক্ষার্থী।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ