শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ।। ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৪ সফর ১৪৪৮


অর্ধশতাব্দীর ইমামতির ইতি, ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বিদায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ফেনী প্রতিনিধি

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ইমামতি, জুমার খুতবা, দ্বীনি শিক্ষা এবং সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এলাকার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী (৯৫)। বার্ধক্যজনিত কারণে স্বেচ্ছায় অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাকে এমন এক সম্মানজনক বিদায় জানিয়েছে এলাকাবাসী, যা স্থানীয়দের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় আয়োজনে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের শিলুয়া চৌধুরী বাড়ি রওশন আরা বেগম চৌধুরানী জামে মসজিদে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী।

মাওলানা শামসুল হক মিয়াজী উপজেলার মধ্যম শিলুয়া গ্রামের মিয়াজী বাড়ির মরহুম এবাদুল্লাহ মিয়াজী মোল্লার ছেলে। ১৯৭৬ সাল থেকে টানা ৫০ বছর ধরে তিনি ওই মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই মসজিদে ইমামতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিরল পারিবারিক ঐতিহ্য। মাওলানা শামসুল হক মিয়াজীর আগে তার বাবা মরহুম এবাদুল্লাহ মিয়াজী টানা ৮১ বছর এবং তার দাদা মরহুম হামিদ উল্যাহ মিয়াজী ৬০ বছর একই মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। বাবার নির্দেশনা অনুসরণ করে শামসুল হক মিয়াজীও সারাজীবন একটিমাত্র মসজিদেই দ্বীনি খেদমত করে গেছেন।

বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরের সিদ্ধান্ত নিলে তার সম্মানে এক ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়িতে তাকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘোড়ার গাড়ির পেছনে শতাধিক মোটরসাইকেলের বিশাল বহর অংশ নেয়। পুরো পথজুড়ে নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সালাম, দোয়া এবং করতালির মাধ্যমে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানান। আবেগঘন এ দৃশ্যে অনেকের চোখেই অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।

দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি হিসেবে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাওলানা শামসুল হক মিয়াজীকে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া চৌধুরী বাড়ির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী এক বছরের পূর্ণ বেতন, আজীবন পেনশন এবং তার আমৃত্যু চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে।

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ